সিঁড়ি দিয়ে তোলা ও পেছন দিকে হাতকড়া পরানো নিয়ে পলকের ক্ষোভ
মামলার শুনানিতে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় তোলা এবং পেছন দিকে দুই হাতে হাতকড়া পরানো নিয়ে আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ রবিউল আলমের আদালতে জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক হত্যা মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানান তিনি।
একই সঙ্গে সামনের দিকে হাতকড়া পরানোর আর্জি জানান পলক।
এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল।
মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।
এ সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয় তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
তখন বিচারক বলেন, এটা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।
তখন পলক বলেন, এটা আপনার অথরিটি না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিচুর রহমান বলেন, তিনি যেটা আদালতে দাবি করেছেন, সেটা অনৈতিক। আইনজীবীদের মনোবল দুর্বল করার জন্য এমন কথা বলেছেন। তবে তাতে আইনজীবীরা ভীত নন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক বলেন,‘আপনার থেকে আমার অবস্থান বেশি দূরে নয়।
তবে মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করায় তাদের বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানি শেষে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয়। এ সময় হাজতখানায় নেওয়ার পথে পলক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত করে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু প্রমুখ।