তুরাগে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার লাশ
তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বুধবার বিকালে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সুরির লাশ উদ্ধার করে।
উত্তরখান থানার এসআই অনুপম দাস বলেন, “লাশ ভেসে ওঠার পর থানা পুলিশ সেখানে যায়। এলাকাটি আমাদের থানার শেষ সীমান্তে পড়েছে। বিষয়টি নৌ পুলিশের হওয়ায় তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।”
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
“আমরা তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাই। তার কাছে একটা মোবাইল ফোন ছিল। সেটির মাধ্যমে আমরা তার পরিচয় শনাক্ত করি।”
ফিরোজ উদ্দিন বলেন, “তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত হবে।”
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাশের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। তার কাছে পাওয়া ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”
ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা ‘র’-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।
জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।” গত বছরের ৪ অগাস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ‘বাস্তবে’ এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।