বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের প্রাণদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু সাজা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 29 অক্টোবর 2026, 08:07 সকাল • 3 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফের প্রাণদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু সাজা

জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার অপর তিন আসামিকে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।

দণ্ডিত চারজনই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে এক অভিযোগে হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অপর তিন আসামিকে এক অভিযোগে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য দুই অভিযোগে চার আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডিতদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের হতাহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে বলা হয়েছে রায়ে।

গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।

সেদিন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।

২৩ অক্টোবর আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল এবং ২৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়—যেখানে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথেষ্ট বলে ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোর অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, ষড়যন্ত্র করা এবং জুলাই-অগাস্ট মাসে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যা করার অভিযোগও রয়েছে।

এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে। গত ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল-২। পরে প্রসিকিউশন থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হয় ৭ অক্টোবর। এরপর বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হলো।