তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ১: ভূমিকা
চারদিকে তাকালেই আমরা কত রকমের গাছ দেখতে পাই!
বাড়ির উঠানে আমগাছ, রাস্তার পাশে কৃষ্ণচূড়া, স্কুলের বাগানে গোলাপ ও জবা, পুকুরের পানিতে শাপলা—কোথাও ধানক্ষেত, কোথাও ঘাসে ভরা মাঠ। আবার দূরের কোনো মরুভূমির ছবিতে দেখা যায় কাঁটায় ঢাকা ক্যাকটাস। পৃথিবী যেন অসংখ্য রকমের উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো এক বিশাল সবুজ রাজ্য।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ—
গাছেরও কি শরীর আছে?
একটি গাছ মাটির নিচে কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে? মাটি থেকে পানি কে টেনে নেয়? পাতাগুলো কী কাজ করে? ফুল কেন ফোটে? ফুল কীভাবে ফলে পরিণত হয়? সব গাছ কি একই রকম? ধানগাছ আর আমগাছের মধ্যে এত পার্থক্য কেন? আবার ফার্ন বা মাশরুমের মতো কিছু উদ্ভিদের ফুল-ফল দেখা যায় না কেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই শুরু হচ্ছে আমাদের নতুন বিজ্ঞান-অভিযান।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র ফারজানা মরিয়ম, একজন বিজ্ঞান শিক্ষিকা। তিনি মনে করেন, বিজ্ঞান শুধু বইয়ের পাতায় পড়ে মুখস্থ করার বিষয় নয়। বিজ্ঞানকে জানতে হলে প্রশ্ন করতে হয়, দেখতে হয়, ছুঁয়ে দেখতে হয়, পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং নিজের চোখে প্রমাণ খুঁজে বের করতে হয়।
তাঁর শ্রেণিকক্ষের আট কৌতূহলী শিক্ষার্থী—নুসরাত জাহান, আনিশা মারজান, মেফতাহুল জান্নাত, আবাবিল আল আলিফ, সাফুয়ান, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু তালহা ও মরিয়ম আক্তার—প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়।
একদিন ফারজানা মরিয়ম তাদের নিয়ে গেলেন স্কুলের বাগানে।
তিনি একটি ছোট্ট গাছের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,
“তোমরা কি এই গাছটিকে চেনো?”
সবাই গাছটির দিকে তাকাল।
কেউ বলল, “অবশ্যই! এটা তো একটা গাছ!”
ফারজানা মরিয়ম মুচকি হেসে বললেন,
“শুধু গাছ বললে হবে? এর কোন অংশ মাটির নিচে? কোন অংশ গাছটিকে দাঁড় করিয়ে রাখে? কোন অংশ খাদ্য তৈরি করে? ফুলের কাজ কী? আর এই গাছটি কি বিরুৎ, গুল্ম নাকি বৃক্ষ?”
শিক্ষার্থীরা একে অন্যের মুখের দিকে তাকাল।
তখনই শুরু হলো তাদের উদ্ভিদ পরিচিতির মহা অভিযান।
এই অভিযানে তারা আবিষ্কার করবে উদ্ভিদের প্রধান অংশ—মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল। তারা জানবে আকার ও কাণ্ডের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উদ্ভিদকে কীভাবে বিরুৎ, গুল্ম ও বৃক্ষ হিসেবে চেনা যায়।
তারা আরও আবিষ্কার করবে সুপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদের পার্থক্য। ফার্ন, মস, মাশরুম ও শৈবালের মতো উদ্ভিদ তাদের সামনে খুলে দেবে এক আশ্চর্য জগৎ।
এরপর শুরু হবে আরও বড় অভিযান। তারা খুঁজে দেখবে কোন উদ্ভিদ মাটিতে জন্মায়, কোনটি পানিতে ভাসে, কোনটি শুষ্ক মরুভূমিতে টিকে থাকে এবং কোন উদ্ভিদ অন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।
কিন্তু এই বই শুধু উদ্ভিদের নাম শেখার বই নয়।
এটি প্রশ্ন করার গল্প।
এটি পর্যবেক্ষণ করার গল্প।
এটি ভুল থেকে শেখার গল্প।
আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি প্রকৃতিকে নতুন চোখে দেখার গল্প।
একটি ছোট্ট ঘাসের ডগা, পুকুরের একটি শাপলা, বাগানের একটি গোলাপ কিংবা রাস্তার পাশের বিশাল বটগাছ—প্রতিটি উদ্ভিদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের অসংখ্য গল্প।
তাই ফারজানা মরিয়মের সঙ্গে চল, নুসরাত, আনিশা, মেফতাহুল, আবাবিল, সাফুয়ান, আসাদুল্লাহ, আবু তালহা ও মরিয়মের সঙ্গে চল সেই সবুজ রাজ্যে।
হয়তো এই অভিযান শেষে তুমি যখন কোনো গাছের দিকে তাকাবে, তখন আর শুধু বলবে না—
“ওটা একটা গাছ।”
বরং তুমি ভাববে—
“এর মূল কী কাজ করছে? কাণ্ডটি কেমন? পাতাগুলো কী করছে? এটি বিরুৎ, গুল্ম নাকি বৃক্ষ? এটি সুপুষ্পক নাকি অপুষ্পক? আর এটি কোথায় কীভাবে বেঁচে আছে?”
সেখান থেকেই শুরু হবে তোমার নিজের উদ্ভিদ পরিচিতির অভিযান।
চলো, পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞানের গল্প খুঁজে বের করি!
লেখক: আশরাফ উল আসাদ