বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
মজার সাথে শিক্ষা - ক্লাস ৩

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: কলম, কাগজ ও লেখার অদৃশ্য বল

আশরাফ উল আসাদ 14 সেপ্টেম্বর 2026, 05:09 সকাল 17 বার পঠিত
তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প: কলম, কাগজ ও লেখার অদৃশ্য বল

তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান গল্প ৬: বস্তুর উপর বলের প্রভাব


অধ্যায় ৮: কলম, কাগজ ও লেখার অদৃশ্য বল


লেখক: আশরাফ উল আসাদ


সেদিন ফারজানা মরিয়ম শিক্ষিকা শ্রেণিকক্ষে এসে বোর্ডে একটি প্রশ্ন লিখলেন:


“আমরা কীভাবে লিখি?”


নুসরাত জাহান বলল, “কলম দিয়ে!”

আনিশা মারজান বলল, “খাতায়!”

সাফুয়ান বলল, “হাত দিয়ে!”

শিক্ষিকা বললেন, “খুব ভালো। কিন্তু কলম দিয়ে লেখার সময় কি আমাদের হাত কোনো বল প্রয়োগ করে?”

মেফতাহুল জান্নাত বলল, “হাত তো কলম ধরে রাখে।”

শিক্ষিকা বললেন, “শুধু ধরে রাখে না, হাত কলমের ওপর বলও প্রয়োগ করে। সেই বলের কারণেই কলম কাগজের ওপর চলতে পারে এবং অক্ষর তৈরি হয়।”


কলম ধরার বিজ্ঞান


ফারজানা মরিয়ম একটি কলম হাতে নিলেন।

তিনি কলমটি খাতার ওপর রাখলেন।

তারপর ধীরে ধীরে কলমটি সামনে, পেছনে ও পাশে চালালেন।

খাতায় একটি দাগ তৈরি হলো।

মরিয়ম আক্তার বলল, “কলম চলল বলেই তো দাগ তৈরি হলো!”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক তাই। আমরা কলমের ওপর হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করি। সেই বলের কারণে কলম কাগজের ওপর চলে।”

তিনি বললেন, “কলমকে শুধু কাগজের ওপর রাখলে দাগ তৈরি হয় না। কলমকে নির্দিষ্ট দিকে চালাতে হয়।”

আবাবিল আল আলিফ বলল, “তাহলে লেখার সময় হাতের বলের দিকও গুরুত্বপূর্ণ!”

শিক্ষিকা বললেন, “একদম ঠিক।”


কাগজের ওপর চাপ


শিক্ষিকা একটি পেন্সিল দিয়ে কাগজে লিখলেন।

তারপর তিনি পেন্সিলটি খুব হালকা করে ধরলেন।

পেন্সিলের দাগ খুব ফিকে হলো।

এরপর তিনি একটু বেশি চাপ দিয়ে লিখলেন।

দাগটি গাঢ় হয়ে গেল।

আসাদুল্লাহ আল গালিব বলল, “বেশি চাপ দিলে দাগ গাঢ় হয়!”

শিক্ষিকা বললেন, “সাধারণভাবে তাই হয়। কারণ পেন্সিলের শিষ কাগজের সঙ্গে বেশি চাপের সংস্পর্শে আসে।”

তিনি সতর্ক করে বললেন, “তবে অতিরিক্ত চাপ দিলে কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে বা পেন্সিলের শিষ ভেঙে যেতে পারে।”


কলমের গতি ও দিক


ফারজানা মরিয়ম বোর্ডে একটি সরল রেখা আঁকলেন।

তিনি বললেন, “এবার বলো, রেখাটি কীভাবে তৈরি হলো?”

আবু তালহা বলল, “কলমকে একদিকে চালানো হয়েছে।”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক তাই।”

তিনি এবার একটি বাঁকা রেখা আঁকলেন।

নুসরাত বলল, “এবার কলমের দিক বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে।”

শিক্ষিকা বললেন, “কলমের ওপর হাতের বলের দিক পরিবর্তন করলে কলমের চলার পথও পরিবর্তিত হয়।”

তিনি আরও বললেন:


- সোজা রেখার জন্য কলমকে একদিকে চালাতে হয়।

- বাঁকা রেখার জন্য কলমের দিক ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে হয়।

- গোল আকৃতি আঁকতে কলমকে ঘুরিয়ে চালাতে হয়।

- অক্ষর লিখতে কখনো সামনে, কখনো পেছনে, কখনো পাশে কলম চালাতে হয়।


লেখার সময় ঘর্ষণ


শিক্ষিকা একটি কাগজের ওপর কলম চালালেন।

তারপর একটি কাচের মসৃণ পৃষ্ঠে কলম চালানোর চেষ্টা করলেন।

কাগজে কলম সহজে দাগ তৈরি করল।

কাচে দাগ তৈরি হলো না।

মেফতাহুল বলল, “কাগজে কলমের দাগ হয়, কিন্তু কাচে হয় না কেন?”

শিক্ষিকা বললেন, “কাগজের পৃষ্ঠ কলমের শিষ বা কালির সঙ্গে এমনভাবে কাজ করে যে দাগ তৈরি হয়। কাগজ ও কলমের মধ্যে ঘর্ষণও থাকে।”

তিনি বললেন, “ঘর্ষণ না থাকলে কলম কাগজের ওপর ঠিকভাবে চলতে পারত না।”

আনিশা বলল, “তাহলে ঘর্ষণ সব সময় খারাপ নয়?”

শিক্ষিকা বললেন, “না। ঘর্ষণ অনেক কাজের জন্য দরকারি। হাঁটা, লেখা, জিনিস ধরা—সব ক্ষেত্রেই ঘর্ষণের ভূমিকা আছে।”


পেন্সিলের শিষের কাজ


শিক্ষিকা একটি পেন্সিল দেখিয়ে বললেন, “পেন্সিলের শিষ কাগজের ওপর ঘষা খেলে তার কিছু অংশ কাগজে লেগে যায়। ফলে দাগ তৈরি হয়।”

সাফুয়ান জিজ্ঞেস করল, “পেন্সিলের শিষ কি সব সময় একই রকম থাকে?”

শিক্ষিকা বললেন, “না। কাগজে লিখতে লিখতে পেন্সিলের শিষ ক্ষয় হয়। তাই পেন্সিল ছোট হতে থাকে এবং একসময় শিষ ভোঁতা হয়ে যায়।”

তিনি একটি পেন্সিল শার্পনার দেখিয়ে বললেন, “শিষ ধারালো করলে আবার স্পষ্টভাবে লেখা যায়।”

মরিয়ম বলল, “শার্পনার দিয়ে পেন্সিল কাটার সময়ও তো বল প্রয়োগ করতে হয়!”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক বলেছ। শার্পনার ঘোরানো বা পেন্সিল ধরে রাখার সময়ও বল কাজ করে।”


হাতের বল কম-বেশি হলে


ফারজানা মরিয়ম শিক্ষার্থীদের একটি ছোট কাজ দিলেন।

তিনি বললেন, “প্রথমে সবাই খুব হালকা হাতে একটি শব্দ লেখো। তারপর একটু বেশি চাপ দিয়ে একই শব্দ লেখো।”

সবাই খাতায় লিখতে শুরু করল।

হালকা চাপ দিয়ে লেখা শব্দগুলো ফিকে হলো।

বেশি চাপ দিয়ে লেখা শব্দগুলো গাঢ় হলো।

আবাবিল বলল, “হাতের বল বদলালে লেখার দাগও বদলে যায়।”

শিক্ষিকা বললেন, “হ্যাঁ। তবে লেখার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। এতে হাত ব্যথা করতে পারে, কলম ভেঙে যেতে পারে এবং কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে।”


কলমের ওপর টান ও ধাক্কা


শিক্ষিকা বললেন, “কলম চালানোর সময় আমরা শুধু ধাক্কা দিই না, কখনো টানও দিই।”

তিনি একটি রেখা আঁকতে কলমকে নিজের দিকে টেনে আনলেন।

তারপর কলমকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে আরেকটি রেখা আঁকলেন।

নুসরাত বলল, “নিজের দিকে আনলে টান, দূরে নিলে ধাক্কা!”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক তাই। কলমের চলার পথে টান ও ধাক্কা—দুই ধরনের বলই ব্যবহার হতে পারে।”

তিনি বললেন, “লেখার সময় হাত, আঙুল ও কবজি একসঙ্গে কাজ করে। তাদের সমন্বিত বলেই সুন্দর অক্ষর তৈরি হয়।”


কাগজ ভাঁজ ও ছেঁড়ার সময় বল


ফারজানা মরিয়ম একটি কাগজ হাতে নিয়ে বললেন, “এবার আমরা দেখব, লেখার বাইরে কাগজের ওপর বল প্রয়োগ করলে কী হয়।”

তিনি কাগজটি ভাঁজ করলেন।

কাগজের আকার পরিবর্তিত হলো।

এরপর তিনি দুই পাশে ধরে কাগজটি টানলেন।

কাগজটি টানটান হলো।

তিনি আরও জোরে টান দিলে কাগজটি ছিঁড়ে গেল।

মেফতাহুল বলল, “টান বেশি হলে কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে!”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক তাই। কোনো বস্তুর ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করলে তার আকার বদলে যেতে পারে, এমনকি বস্তুটি ছিঁড়েও যেতে পারে।”


রাবার দিয়ে লেখা মুছে ফেলা


শিক্ষিকা এবার একটি রাবার বের করলেন।

তিনি পেন্সিলের লেখা একটি শব্দ রাবার দিয়ে ঘষে মুছে ফেললেন।

আনিশা বলল, “রাবার দিয়ে ঘষলে লেখা মুছে যায় কেন?”

শিক্ষিকা বললেন, “রাবার কাগজের ওপর ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। সেই ঘর্ষণের ফলে পেন্সিলের কিছু দাগ উঠে যায়।”

তিনি বললেন, “এখানেও বল কাজ করছে। আমরা রাবারকে কাগজের ওপর চাপ দিয়ে সামনে-পেছনে চালাই।”

আসাদুল্লাহ গালিব বলল, “তাহলে রাবার দিয়ে লেখা মুছতেও চাপ ও ঘর্ষণ দরকার!”

শিক্ষিকা বললেন, “খুব ভালো।”


লেখার সময় শরীরের ভারসাম্য


ফারজানা মরিয়ম বললেন, “লেখার সময় শুধু কলম নয়, আমাদের পুরো শরীরের কিছু অংশ কাজ করে।”

তিনি বোঝালেন:


- আঙুল কলম ধরে রাখে।

- হাত কলমকে সামনে-পেছনে ও পাশে চালায়।

- কবজি কলমের দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।

- বাহু হাতকে সমর্থন দেয়।

- অন্য হাত খাতা স্থির রাখতে সাহায্য করে।

- চোখ দেখে অক্ষর সঠিকভাবে লেখা হচ্ছে কি না।


মরিয়ম আক্তার বলল, “খাতা স্থির না রাখলে তো লিখতে অসুবিধা হয়!”

শিক্ষিকা বললেন, “ঠিক তাই। খাতার ওপর অন্য হাত দিয়ে হালকা চাপ দেওয়াও এক ধরনের বল প্রয়োগ।”


একটি ছোট শ্রেণিকক্ষ পরীক্ষা


শিক্ষিকা সবাইকে তিনটি কাজ করতে বললেন:

১. কাগজের ওপর হালকা হাতে একটি রেখা আঁকো।

২. একই রেখা একটু বেশি চাপ দিয়ে আঁকো।

৩. কলমের দিক পরিবর্তন করে একটি বাঁকা রেখা আঁকো।


শিক্ষার্থীরা কাজটি করল।

তারা দেখতে পেল:


- চাপ কম হলে দাগ ফিকে হয়।

- চাপ বেশি হলে দাগ গাঢ় হয়।

- কলমের দিক বদলালে রেখার পথ বদলে যায়।

- কলমের ওপর বল প্রয়োগ না করলে কাগজে দাগ তৈরি হয় না।

- খাতা স্থির রাখলে লেখা সহজ হয়।


ফারজানা মরিয়ম বললেন, “এই ছোট পরীক্ষায় আমরা বুঝলাম, লেখার প্রতিটি ধাপে বলের প্রভাব রয়েছে।”


নিরাপত্তা ও সঠিক অভ্যাস


শিক্ষিকা বললেন:


- কলম বা পেন্সিলের শিষ চোখের দিকে ধরা যাবে না।

- অতিরিক্ত চাপ দিয়ে লিখলে হাত ব্যথা হতে পারে।

- পেন্সিল কাটার সময় শার্পনার সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

- কলম দিয়ে টেবিল বা বন্ধুর শরীরে আঘাত করা যাবে না।

- রাবার মুখে দেওয়া যাবে না।

- লেখার সময় সোজা হয়ে বসতে হবে।

- খাতা স্থির রাখতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না।

- কলম ভেঙে গেলে ধারালো অংশ হাতে নেওয়া যাবে না।


সাফুয়ান বলল, “লেখার মতো সাধারণ কাজেও কত ধরনের বল কাজ করে!”

শিক্ষিকা বললেন, “বিজ্ঞান আমাদের চারপাশের প্রতিটি কাজে লুকিয়ে আছে। মন দিয়ে দেখলেই তা বোঝা যায়।”


আজকের শিক্ষণীয় কথা


কলম বা পেন্সিলের ওপর হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করলে তা কাগজের ওপর চলতে পারে।

কলমের গতি ও দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন অক্ষর, রেখা ও আকৃতি আঁকা যায়।

পেন্সিলের শিষ কাগজের সঙ্গে ঘর্ষণ করে দাগ তৈরি করে।

হাতের চাপ কম-বেশি হলে লেখার দাগ ফিকে বা গাঢ় হতে পারে।

রাবার দিয়ে লেখার দাগ মুছতেও চাপ ও ঘর্ষণ কাজ করে।

খাতা স্থির রাখতে অন্য হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করা হয়।

লেখার সময় সঠিক ভঙ্গি ও নিরাপত্তা মেনে চলা জরুরি।


অধ্যায় শেষে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন


১. কলম কাগজের ওপর চলার জন্য কী প্রয়োজন?

ক. হাতের বল

খ. শুধু আলো

গ. শুধু শব্দ

ঘ. শুধু বাতাস


২. পেন্সিলের দাগ গাঢ় করতে সাধারণত কী করা হয়?

ক. একটু বেশি চাপ দেওয়া

খ. পেন্সিল দূরে রাখা

গ. কাগজ সরিয়ে ফেলা

ঘ. চোখ বন্ধ করা


৩. কলমের দিক পরিবর্তন করলে কী পরিবর্তিত হয়?

ক. কলমের চলার পথ

খ. কলমের নাম

গ. কলমের গন্ধ

ঘ. কলমের রং সব সময়


৪. লেখার সময় কাগজ ও কলমের মধ্যে কোন শক্তি কাজ করে?

ক. ঘর্ষণ

খ. চুম্বকত্ব

গ. শুধু আলো

ঘ. শুধু শব্দ


৫. পেন্সিলের শিষ কাগজে দাগ তৈরি করে কীভাবে?

ক. ঘর্ষণের মাধ্যমে

খ. আলো ছড়িয়ে

গ. শব্দ করে

ঘ. বাতাস দিয়ে


৬. রাবার দিয়ে পেন্সিলের লেখা মুছতে কী দরকার?

ক. চাপ ও ঘর্ষণ

খ. শুধু পানি

গ. শুধু আলো

ঘ. শুধু তাপ


৭. অতিরিক্ত চাপ দিয়ে লিখলে কী হতে পারে?

ক. কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে

খ. কলম উড়ে যেতে পারে

গ. খাতা অদৃশ্য হতে পারে

ঘ. লেখা সব সময় মুছে যায়


৮. খাতা স্থির রাখতে কী করা হয়?

ক. অন্য হাত দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া

খ. খাতা বাতাসে রাখা

গ. খাতা ভাঁজ করে ফেলা

ঘ. খাতা ছিঁড়ে ফেলা


৯. লেখার সময় কোনটি নিরাপদ অভ্যাস?

ক. কলমের শিষ চোখের দিকে না ধরা

খ. কলম দিয়ে বন্ধুকে আঘাত করা

গ. পেন্সিল মুখে দেওয়া

ঘ. শার্পনার নিয়ে খেলা করা


১০. লেখার সময় হাত, আঙুল ও কবজি কী করে?

ক. কলম চালাতে সাহায্য করে

খ. শুধু খাতা দেখে

গ. শুধু শব্দ তৈরি করে

ঘ. কোনো কাজ করে না


উত্তরমালা


১. ক

২. ক

৩. ক

৪. ক

৫. ক

৬. ক

৭. ক

৮. ক

৯. ক

১০. ক

#শিক্ষা