বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা? মন্ত্রী বললেন 'সঠিক নয়'

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 30 সেপ্টেম্বর 2026, 12:59 দুপুর • 5 বার পঠিত
পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা? মন্ত্রী বললেন 'সঠিক নয়'

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার যে খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা অস্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তার ভাষ্য, "স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্বাধীনতা স্তম্ভ, সেটা কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।

"এটার যে প্ল্যানটা ছিল, যে ঐ পাকিস্তানি সেনাদের সারেন্ডার, সেটা নিয়েও আমাদের যে ওখানে ফোয়ারা হচ্ছে, এ নিয়ে আমাদের কোনো রকমের আলোচনা বা আমরা এ নিয়ে কিছু করিনি।"

বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে একসঙ্গে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস 'সোহরাওয়ার্দীতে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেকেই সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেন।

প্রতিবেদনের তথ্যের বিষয়ে মন্ত্রী এখন তা অস্বীকার করলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় তার বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এড়িয়ে যান। তিনি এ বিষয়ে ‘দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে’ কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানমও।

তিনি বলেছিলেন, “এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন, আপনি শাহজাহান সাহেবের (শাহজাজান মিয়া) কাছে যান, তিনি বিস্তারিত বলবেন।”

শাহজাহান মিয়া আছেন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে।

তিনি বলেন, “আমি এটা নিয়ে কীভাবে বলব, আমার বলার সুযোগ নাই। আপনি পলি করের কাছে যান। পলি কর বিস্তারিত বলবেন।”

মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদনে পানির ফোয়ারা বসানোর মতামত তুলে ধরেছে, সেখানে উপসচিব পলি করের সই রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকার কথা বলেন। তবে নথিতে নিজের সই থাকার কথা তিনি স্বীকার করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে।

এই প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। যে দুটি স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছিল, সেসব স্থানে ভাঙচুরও চালানো হয়।

এরপর গত বছরের মার্চে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অরন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ভাস্কর্য দুটি হচ্ছে না।

এখন এসে ওই দুই স্থানে পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে নেওয়ার তথ্য মেলে নথিতে।

তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এর দায় চাপান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর।

বুধবার তিনি বলেন, "এটা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটা আলোচনা ছিল যে ওখানে কি করা যায়।

"কিন্তু আমরা এ নিয়ে কোনো কিছু ভাবছি না। আমরা ওই স্বাধীনতা স্তম্ভের যে মূল চেতনাটা, এটা কীভাবে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, আমাদের সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি এবং সেটা নিয়ে কাজ করব।”

তার ভাষ্য, "পত্রিকায় যেটা এসেছে, যে সারেন্ডারের পর...মানে পরিবর্তে ফোয়ারা, এগুলো একদমই সঠিক না।

"আমরা কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেইজে এটা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছি। আপনারা সেই ফেইসবুক স্ট্যাটাস অনেকেই নিশ্চয়ই পড়েছেন, না পড়লেও আপনারা পড়বেন, আমাদের বক্তব্য সেখানে আছে।"

বিএনপি সরকার কী করবে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, "আমরা এখন কিছু করছি না।…ওটা নিয়ে আমরা সক্রিয় চিন্তা করছি, কারণ অনেক দিন হলো এটা সম্পন্ন করার অপেক্ষায় আছে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

"কাজেই এটা অপরিবর্তিত না পরিবর্তিত হচ্ছে, এই যে মন্তব্যটা এসেছে পত্রিকায়, এটা সঠিক নয়। যা হবে, আপনারা সেটা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।"

বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকে মন্ত্রণায়ের প্রতিক্রিয়া আসে তিন দিন আগে।

তাতে বলা হয়, “৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। তবে এ বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছু চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শ থাকতে পারে।

“বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্বার্থে অন্যান্য বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্প নিয়েও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা ও পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টেফোর ডটকমের খবর অস্বীকার করলেও তাতে মন্ত্রণালয়ের নথির কোনো ব্যাখ্যা ছিল না।