ফরিদপুরে গৃহবধূ হত্যায় স্বামী ও শাশুড়ির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক নারীকে হত্যা মামলায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতের অতিরিক্ত পিপি চৌধুরী জাহিদ হাসান জানান।
দণ্ডিতরা হলেন- বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) ও তার মা রাহেলা বেগমকে (৫০)।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়েছেন বিচারক; অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১০ সালে বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের সুমির সঙ্গে আতিয়ার রহমান তালুকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
নিহত সুমির ভাই ও মামলার বাদী মো. সরোয়ার মোল্যা এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার স্বামী ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। এরপর থেকে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সুমিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে এক পর্যায়ে সুমি ও তার স্বামীকে কেশরাইলের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পরও সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করেন তার ভাই।
২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিয়ার রহমানের বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে খাটের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।
মামলার নথিতে বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।
অতিরিক্ত পিপি চৌধুরী জাহিদ হাসান বলেন, ঘটনার সময় নিহতের স্বামী পলাতক ছিলেন। তবে শাশুড়ি ও খালাস পাওয়া শ্বশুর খলিলুর রহমান তালুকদার (৫৫) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ বছর পর আদালতের এই রায় ঘোষণা হলো। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ্ট।”