যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন আইসেয়াসে নিহত ৪, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে শনিবার ভোরে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-২ হারিকেন ‘আইসেয়াস’-এর তাণ্ডবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মারা গেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ের রূপ নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) সতর্ক করে বলেছে, ফ্লোরিডাসহ জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনায় আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ ট্র্যাকিং সংস্থা 'পাওয়ারআউটেইজ ডট ইউএস' জানায়, ফ্লোরিডা, অ্যালাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে ছয় লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড় ‘রেচেল’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও সাত হাজার মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন।
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ১৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর রন ডেস্যান্টিস।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামায় জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মালিন।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বিকভাবে ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
হারিকেন আইসেয়াসের প্রভাবে মেক্সিকো উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রায় ৬৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫৭ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
শেলের মতো বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিলেও রোববার ফের কর্মী পাঠানো ও উৎপাদন চালুর কাজ শুরু করেছে।
ঝড়জনিত কারণে তেলের সরবরাহ সংকট সামাল দিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ তাদের জরুরি মজুদ (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।
এদিকে ঝড়ে ফ্লোরিডার উপকূলীয় শহর পেন্সাকোলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পেন্সাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।