বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

যেভাবে শহীদ হন আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ (রা.)

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 19 এপ্রিল 2026, 06:54 বিকাল 79 বার পঠিত
যেভাবে শহীদ হন আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ (রা.)

শহীদ মৃত্যুর প্রবল আকাঙ্খা নিয়ে যাঁরা সারাজীবন ইসলামের পক্ষে লড়াই করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বীর সাহাবি আব্দুল্লাহ (রা.)। তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ। পিতা মাখরামাহ। মা বাহনানাহ বিনতে সফওয়ান ইবনে উমাইয়া ইবনে মিহরাস। বনু কিনানাহ গোত্রের কন্যা। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/৩০৮; আল-ইসাবাহ ৪/১৯৩

ইসলাম ও হিজরত

তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হন এবং দ্বিতীয় পর্বে হাবশা হিজরতকারী জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর দলের সাথে হাবশা হিজরত করেন। বালাযুরী বলেন, (কিছুকাল হাবশা থাকার পর) ফিরে আসেন মক্কায়। এরপর মক্কা থেকে হিজরত করেন মদিনায়। মদিনায় গিয়ে প্রথমে কুলসুম ইবনে হিদম (রা.)-এর মেহমান হন। এরপর রাসুল (সা.) ‘বনু বায়াযাহ’ গোত্রের ‘ফারওয়াহ ইবনে আমরে’র সাথে তাঁর ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/৩০৮—৩০৯; আল-ইসাবাহ ৪/১৯৩)

যুদ্ধ-জিহাদ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ (রা.) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তখন তাঁর বয়স ৩০ বছর। বদর-পরবর্তী সকল যুদ্ধে রাসূল সা. এর সাথে অংশগ্রহণ করেন। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/৩০৮—৩০৯)

শাহাদাতবরণ

শাহাদাতের অদম্য স্পৃহা ছিল তাঁর অন্তরে। তিনি প্রায়ই মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিটি জোড়া আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত না হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিও না। (মুজামুস সাহাবা ৪/২৯; আল-ইসাবাহ ৪/১৯৩)

এমন তীব্র বাসনা নিয়ে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সমস্ত যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে শরিক ছিলেন। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহীদের ফিতনা। আবু বকর (রা.) কঠোরভাবে ওই সব ফিতনা নির্মূল করেন। ১২ হিজরি সনে সংঘটিত হয় ইয়ামামার যুদ্ধ। আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামা (রা.) শাহাদাতের অদম্য আগ্রহ অন্তরে নিয়ে যোগদান করেন। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে সমস্ত শরীরকে ঝাঁঝরা করেন। রোজার মাস। রোজা রেখেছেন তিনি। ইফতারের সময় আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) তাঁর খবর নিতে গিয়ে দেখেন তিনি অন্তিম সময়ে।

কাতর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনে উমার! ইফতারের সময় কি হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আমার জন্য একটু পানির ব্যবস্থা করুন। হযরত ইবনে উমার (রা.) পানি এনে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই; চলে গেছেন প্রভুর সান্নিধ্যে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর। তাঁর কোনো সন্তানাদি ছিল না। তাঁর ভাইয়ের সন্তানদেরকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/৩০৮—৩০৯)