যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য জান্নাত হারাম
পার্থিব জীবনের নশ্বরতা পেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে পাড়ি দিতে হয় পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানায়। পরকালীন সেই যাত্রায় সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জাহান্নামের অগ্নিশিখা থেকে মুক্তি। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সেই সফলকাম।
তবে পরকালীন এই চিরস্থায়ী শান্তিলাভ সবার ভাগ্যে জুটবে না। বিশেষ করে তিনটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য জান্নাত হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সফলতার শর্ত ও রাসুলের (সা.) আদর্শ
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, পরকালে সফল হতে হলে মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।
পাপমুক্ত জীবন গঠন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে এমন বিষয়গুলো সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে হাদিসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস বিশ্লেষণে এমন তিন ধরনের ব্যক্তির কথা উঠে এসেছে, যাদের জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন—
মদ্যাসক্ত ব্যক্তি: যে ব্যক্তি সর্বদা নেশাগ্রস্ত থাকে বা নিয়মিত মাদক সেবন করে।
পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান: যারা জন্মদাতার অবাধ্য হয় কিংবা তাদের মনে কষ্ট দেয়।
দাইয়ুস: ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারে পর্দার খেলাফ বা অশ্লীল কর্মকাণ্ড ও পাপাচার চলতে দেখেও কোনো প্রতিরোধ বা ব্যবস্থা নেয় না। (মিশকাত: ৩৬৫৫)
মুহাদ্দিসগণের মতে, দাইয়ুস হলো সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজ দেখেও উদাসীন থাকে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই তিন প্রকার কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক। পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভের প্রত্যাশায় মহান আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত হওয়া এবং রাসুলের (সা.) সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই এই কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।