বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

সুন্নাহর আলোকে মুমিনের বৃষ্টি বিলাস

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 30 এপ্রিল 2026, 12:24 দুপুর 101 বার পঠিত
সুন্নাহর আলোকে মুমিনের বৃষ্টি বিলাস

মহান আল্লাহর কুদরতের অনন্য নিদর্শনগুলোর একটি হলো, বৃষ্টি। এটি শুধু মানুষের মনে প্রশান্তি বয়ে আনে না, বরং পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের জীবন, জীবিকায় বিশেষ অবদান রাখে। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে বৃষ্টির উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। যেমন একটি আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই সে সত্তা, যিনি তাঁর (রহমত) বৃষ্টির আগে বায়ু প্রবাহিত করেন সুসংবাদ হিসেবে, অবশেষে যখন সেটা ভারী মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি সেটাকে মৃত জনপদের দিকে চালিয়ে দিই, অতঃপর আমি তা দ্বারা বৃষ্টি বর্ষণ করি, তারপর তা দিয়ে সব রকমের ফল উত্পাদন করি। এভাবেই আমরা মৃতদের বের করব, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৭)

বৃষ্টি যেহেতু মানুষের মনে অন্য রকম অনুভূতির জন্ম দেয়, তাই একেক জন এই নিয়ামতকে একেক ভাবে উদযাপন করে। কেউ আবার গান-বাদ্যর মাধ্যমে একে উদযাপন করতে গিয়ে মহান আল্লাহর একটি অমূল্য নিয়ামত উপভোগের সঙ্গে গুনাহকে মিলিয়ে ফেলে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বৃষ্টির সময় এমন কিছু আমল আছে, যেগুলো বৃষ্টির সময়কে আরো মহিমান্বিত করে তোলে।

নিম্নে বৃষ্টির দিনে রাসুল (সা.)-এর কিছু আমল তুলে ধরা হলো:

আল্লাহর রহমত কামনা করা : বৃষ্টি একদিকে আকাশ থেকে ঝরে পড়া মহান রাব্বুল আলামিনের রহমতের বারিধারা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে এই রহমতের উপকরণই আজাব হিসেবে ধেয়ে আসতে পারে। তাই রাসুল (সা.) বৃষ্টি দেখলেই মহান আল্লাহর দরবারে উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন বৃষ্টি হতো তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআহ’, (অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি এ বৃষ্টিকে প্রবহমান এবং উপকারী করে দাও)। (নাসায়ি, হাদিস : ১৫২৩)

বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় বৃষ্টি নামল। তখন রাসুল (সা.) তাঁর শরীরের কিছু অংশ থেকে কাপড় তুলে নেন। ফলে তাতে বৃষ্টির পানি পৌঁছে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! এরূপ কেন করলেন? তিনি বললেন, কেননা এটা মহান আল্লাহর কাছ থেকে আসার সময় খুবই অল্প। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৬৮)

বৃষ্টির সময় দোয়া করা : কেননা বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময়ের দোয়া কবুল হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৪০)

অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচতে দোয়া : অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে আল্লাহর কাছে অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করতে হবে। রাসুল (সা.) একবার অতিবৃষ্টিতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা’ অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি বৃষ্টি আমাদের আশপাশে বর্ষণ করো, আমাদের ওপরে নয়। (নাসায়ি, হাদিস : ১৫২৭)

উল্লেখ্য, এখানে এটি উদ্দেশ্য নয় যে আমাদের পাশের এলাকা ডুবিয়ে দাও, বরং উদ্দেশ্য হলো, জনবসতিহীন কোথাও বৃষ্টি সরিয়ে নাও।

বজ্রপাত হলে দোয়া : প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। তাই বজ্রধ্বনি শুনলে মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত। মহানবী (সা.) বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে দোয়া করতেন—উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা তাত্বতুলনা বিগজবিকা, ওয়া লা তুহলিকনা বি-আজাবিকা, ওয়া আ-ফিনা ক্ববলা জালিকা।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তোমার গজব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫০) 

বৃষ্টি শেষে দোয়া পড়া : বৃষ্টি শেষে রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামদের একটি বিশেষ দোয়া পড়ার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন, দোয়াটি হলো, ‘মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহ’। এর অর্থ হলো, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩৮)

কারণ মক্কার কাফেররা ভাবত আকাশের বিভিন্ন নক্ষত্র আমাদের বৃষ্টি দেয়। অথচ এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। রাসুল (সা.) বৃষ্টি শেষে এই দোয়া পড়ে এ কথার সাক্ষ্য দিতেন যে মহান আল্লাহই আমাদের বৃষ্টি দেন।