সৌদি আরবে হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদ আবিস্কার
সৌদি আরবে হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদ আবিস্কৃত হয়েছে। দেশটির আল-মাখওয়া গভর্নরেটের আল-আসদা এলাকায় ঐতিহাসিক এই মসজিদ আবিষ্কৃত হয়েছে। আল-আসদা প্রাচীনকালে ইয়েমেন থেকে মক্কাগামী হজপথের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। ফলে এটি ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সৌদি আরবের হেরিটেজ কমিশন তাদের বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আল-মাখওয়া আল-আসদা প্রত্নস্থলে দ্বিতীয় দফার প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ সম্পন্ন করেছে। খননে এমন অনেক স্থাপত্য কাঠামো ও নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা সমৃদ্ধ সময়ে এই স্থানের উন্নত জীবনযাত্রার প্রতিফলন। উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারগুলোর মধ্যে আছে প্রায় ১১ মিটার প্রস্ত ও ১২ মিটার দীর্ঘ আয়তনের একটি প্রাচীন মসজিদ, যাতে একটি মিহরাব এবং তিনটি প্রধান প্রবেশপথ রয়েছে।
মসজিদটিতে বর্গাকার স্তম্ভভিত্তি ছিল, যা এক সময় ছাদকে ধারণ করত। খননে মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে চারটি কক্ষও আবিষ্কৃত হয়েছে, যার কিছু ৪ মিটার প্রস্থ এবং ৫ মিটার দীর্ঘ এবং কিছু ৩ মিটার চওড়া এবং ৪ মিটার লম্বা। এই কক্ষগুলোতে পানির ট্যাংক, সংরক্ষণাগার এবং রান্নার জন্য ব্যবহূত অভ্যন্তরীণ চুলার মতো স্থাপত্য উপাদান রয়েছে, যা সম্ভবত আবাসিক বা মসজিদ-সংশ্লিষ্ট সেবামূলক কাজে ব্যবহূত হতো।
অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্রের টুকরা। সায়াপস্টোনের পাত্র, খাদ্য প্রস্তুতের জন্য ব্যবহূত পেষণ পাথর ও পাথরের চাকি। এই আবিষ্কারগুলো হেরিটেজ কমিশনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য রাজ্যজুড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা সম্প্রসারণ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর নথিভুক্তিকরণ। এর মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের ইতিহাস সম্পর্কে একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানভিত্তি গড়ে তোলা এবং এর সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।