শাহাদাতই চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চট্টগ্রাম করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে সংস্থাটির প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
এতে বলা হয়, সংশোধিত স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আনের ৪ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী, ডা. শাহাদাত হোসেন সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন তিনি।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।
২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেন রেজাউল। এ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচনের ২৭ দিন পর ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সেই মামলার রায়ে শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন। পরে ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র পদে শপথ নেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত।
আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
সবশেষ ভোটের তারিখ ধরলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গত মে মাসে ফুরিয়ে যায়। ফলে বিএনপি নেতা শাহাদাতের মেয়র পদে বহাল থাকা নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দেয়।
এ নিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন, মেয়র হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এ নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে হাই কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
“আমি যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত আমার মেয়াদ। সেটা আমি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছিলাম। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে আর কিছু বলেনি।”
এর আট মাস বাদে শাহাদাতকেই প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটির দায়িত্বে রাখল সরকার।বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়া সবখানে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। এর মধ্যে বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা হয় এ বছরের মে মাসে, সেখানেও বিএনপি নেতা প্রশাসক হিসেবে রয়েছে। সবশেষ চট্টগ্রামও দলীয় প্রশাসক পেল।