পর্দা এবং কিছু কথা
এদেশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা, হিজাব-বোরকা-নিকাবের নাম পর্দা। কেউ একজন নিকাব পরে ঘর থেকে বেরোয় মানে সে খাস (পরিপূর্ণ) পর্দা করে। কেউ একজন বোরকা পরে চোখ-কব্জি খোলা রেখে বেরোয় মানে সেও পর্দা পালন করে। মুখ খোলা রেখে মাথায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে বেরোলেও অনেকে মনে করে, মেয়েটি পর্দাশীলা। বেরোনোর সময় কড়া সেন্ট মাখলেও নিকাবির খাস পর্দা ব্যাহত হয় না। ব্যাট হাতে মাঠে নেমে গেলেও বোরকাওয়ালির পর্দা লঙ্ঘিত হয় না। এবং কড়া সেন্টের সাথে কড়া লিপিস্টিক মেখে হাই হিলের ঠকঠক আওয়াজ তুলে পরিবেশ শব্দমুখর করে হেঁটে গেলেও ভঙ্গ হয় না ‘পর্দা’র বন্ধন।
পর্দার এই ধারণার সাথে ইসলামের কোনো যোগ নেই। ইসলামে পর্দা অর্থ সাধারণ অবস্থায় ঘরে অবস্থান করা। অতি প্রয়োজনে প্রয়োজনপূরণার্থে দরকারি সময়টুকুর জন্য বাইরে বেরোনো। বেরোনোর সময় নিজেকে এমনভাবে আবৃত করা যেভাবে সাহাবি ইবনু আব্বাস বলেছেন :
‘অন্তঃপুরবাসিনীরা যখন বেরোবে ঘর থেকে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে, তারা যেন মাথার উপর থেকে জিলবাব ছেড়ে দিয়ে পুরো চেহারা ঢেকে নেয়; খোলা রাখে কেবল একটি চোখ। [ইবনু কাসির, সুরা আহযাব : ৫৯]
তাবিয়ি ইমাম সুফিয়ান সাওরি রহ. মনে করেন, ‘দাসী ও ব্যভিচারিনী নারী ব্যতীত অন্য সকল মুমিন মহিলার জন্য এই হুকুম প্রযোজ্য। [প্রাগুক্ত]
সুতরাং পর্দা অবলম্বনকারী মুসলিম অবগুণ্ঠিতাকে জানতে হবে আল্লাহ তাকে আদেশ করেছেন :
‘তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে; মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।’ [সুরা আহযাব : ৩৩]
অতি প্রয়োজনে ঘর থেকে বেরোনোর সময় তার মনে রাখতে হবে, খোদ নবিজিকে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন :
‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ [সুরা আহযাব : ৫৯]
মনে রাখতে হবে, প্রিয় নবিজি, যিনি নিশ্চিত করেছেন তার অধিকার, চেয়েছেন নিরাপদে থাকুক তার ইজ্জত-আব্রু, তিনি সতর্ক করে বলে গেছেন :
নারী হল ‘আওরত’। (অর্থাৎ যার লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা উচিৎ।) নারী যখন ঘর থেকেবের হয় (নিজেকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে) তখন শয়তান তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়। [জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৭৩]
সবসময় মনে রাখতে হবে, স্বয়ং প্রতিপালক, তারচেয়ে সত্যবাদী আর কে হতে পারে, হুশিয়ার করে বলে দিয়েছেন :
ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্ক্ষাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই। [সুরা বাকারা : ১২০]