ওমানে কোরআন বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত
ওমানে কোরআন ও মানব উন্নয়ন শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ ও ২১ এপ্রিল ওমানের রাজধানী মাস্কাটের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে তা অনুষ্ঠিত হয়। সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে ইমাম জাবের বিন জায়েদ এন্ডোমেন্ট ফাউন্ডেশন আর পৃষ্ঠপোষকতা করেন রয়্যাল কোর্টের দিওয়ান বিষয়ক মন্ত্রী সাইয়েদ খালিদ বিন হেলাল আল বুসাইদি। এতে ওমানের স্থানীয় ও ভিনদেশি কোরআন গবেষক ও ইসলামী শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা অংশ করেন।
দুই দিনব্যাপী এই সিম্পোজিয়ামের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশে পবিত্র কোরআনের ভূমিকা। শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিক ভবিষ্যত্ গঠনে কোরআনের গুরুত্ব তুলে ধরা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।
‘কোরআন ও মানব উন্নয়ন’ সিম্পোজিয়ামের মূল অধিবেশনে পবিত্র কোরআনকে মানবচিন্তা গঠনের সর্বোচ্চ নির্দেশক এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাজন অতিক্রমে কোরআনের ভূমিকা পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচকরা মুসলিম সমাজের বাস্তবসম্মত উপলব্ধি এবং নৈতিক মানদণ্ডে অটল থাকার মধ্যে ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি কোরআনিক কাঠামোর ভেতরে যুক্তির পুনঃব্যবহার—যেখানে জ্ঞান ও ঈমানের সমন্বয় ঘটে তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা আশা করের এর মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব এবং তা উম্মাহর পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখবে।
সিম্পোজিয়ামের প্রথম দিনে ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে কোরআনের কেন্দ্রীয় ভূমিকার একটি পর্যালোচনা করা হয়। এতে পাঁচটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে মানব ও সভ্যতার উন্নয়নের প্রধান উত্স হিসেবে পবিত্র কোরআন এবং মানবজ্ঞান গঠনের অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনটি উন্মুক্ত বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ‘পবিত্র কোরআনে ফিকহুন নফস: শিক্ষাক্ষেত্রে সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠন’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থাপন করেন ড. আবদুর রহমান শাকির আল হাশেমি।
কর্মশালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামাজিক ও মনোবৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ এবং তত্ত্বাবধায়কদের লক্ষ্য করে আয়োজন করা হয়। এতে কোরআনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মানসিক ও শিক্ষাগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মূল্যবোধভিত্তিক সমন্বিত পেশাগত চর্চা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।