বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পাঁচ মুজেজা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল 02 জুলাই 2021, 04:21 দুপুর 3,273 বার পঠিত
নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পাঁচ মুজেজা

পৃথিবীতে আল্লাহ যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাদের সকলকেই আল্লাহ নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে কিছু চিহ্ন বা মুজেজা দিয়েছেন। তাদের জীবনে কোনো ঘটনা অথবা আল্লাহর অনুমতিতে স্থায়ী কোনো ক্ষমতার মাধ্যমে এই মুজেজার প্রকাশ হয়েছে। সর্বশেষ রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মদ (সা.) কেও আল্লাহ এরূপ বিভিন্ন মুজেজার ক্ষমতা দানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।

এখানে রাসূল (সা.) এর বিভিন্ন মুজেজা থেকে পাঁচটি মুজেজা উল্লেখ করা হলো।

১. চাঁদকে দুই ভাগ করা
মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কায় তার নবুওয়াতের দাওয়াত প্রচার করছিলেন, মক্কার অবিশ্বাসীরা তখন তার কাছে তার নবুওয়াতের প্রমান দাবি করেছিল। রাসূল (সা.) তখন আল্লাহর আদেশে আকাশের চাঁদের দিকে ইশারা করেন এবং তা দুই খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, “চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়ার ঘটনার সময় আমরা রাসূল (সা.) এর সাথে মিনায় ছিলাম। রাসূল (সা.) আমাদের বলেন, ‘সাক্ষী থেকো।’ চাঁদের একটি খন্ড পাহাড়ের অপরপাশে চলে গিয়েছিল।” (বুখারী)

কিছু সময় পর আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই মুজেজা দেখার পরেও অবিশ্বাসীরা রাসূল (সা.) উপর ঈমান আনেনি বরং তারা তাকে জাদুকর হিসেবে অপবাদ দেয়।

২. ইসরা ও মিরাজের যাত্রা
মদীনায় হিজরতের অল্প কিছুদিন আগে আল্লাহ রাসূল (সা.) কে তার নিজের কাছে ডেকে নেন। এসময় রাসূল (সা.) এক রাতের মধ্যে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুসালেমের মসজিদুল আকসায় গিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন এবং সেখান থেকে উর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে আবার মক্কায় ফিরে আসেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

“পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি তার বান্দাকে রাতের বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১)

৩. গাছের কান্না
মদীনায় মসজিদে নববীতে মিম্বার তৈরির পূর্বে রাসূল (সা.) পূর্বে একটি গাছের শুকিয়ে যাওয়া কাণ্ডে ভর দিয়ে তার বক্তব্য ও উপদেশ বাণী দিতেন। পরবর্তীতে তার জন্য মসজিদে একটি মিম্বার তৈরি হলে তিনি মিম্বারে গিয়ে তার বক্তৃতা দিলেন। এতে গাছের ঐ শুকনো কাণ্ডটি কাঁদতে থাকে। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) মিম্বর থেকে নেমে কান্ডটির ওপর তার হাত না রাখা পর্যন্ত এটি কাঁদছিলো। (বুখারী)

৪. ওজুর পানি
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় একবার নামাজের জন্য ওজুর পানির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। মুসলমানদের কাছে অল্প কিছু পানি জমা করা ছিলো, যা সকলের জন্য পর্যাপ্ত ছিলো না। রাসূল (সা.) কে তা জানানো হলে, রাসূল (সা.) জমা করা পানিটুকু আনার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি তাতে হাত ভেজান এবং পরপরই তার হাত থেকে ঝর্ণার মত পানি প্রবাহিত হতে থাকে। তখন সকলেই সেখান থেকে ওজু করে নেয় এবং তা পান করে নিজেদের তৃষ্ণা মেটায়। (বুখারী)

৫. কুরআন
আর সকল মুজেজা থেকে রাসূল (সা.) এর পর অবতীর্ন পবিত্র কুরআন রাসূল (সা.) এর সবচেয়ে বড় মুজেজা। এটি কারো পক্ষেই অস্বীকার করা সহজ নয়। আরবি সাহিত্যের স্বর্ণযুগে কুরআনের মত একটি গ্রন্থের অবতরন এবং অনুরূপ সমতুল্য সাহিত্য আনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা কুরআনের আল্লাহর কালাম হওয়ার যথার্থতাকে প্রমাণ করে।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

 قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَىٰ أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَـٰذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا

“বলুন, যদি মানুষ ও জ্বিন এই কুরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্য জড়ো হয় এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়, তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৮)