মরিশাসে কাচের বাক্সে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি ভারী বাক্স নামানোর সময় সেটি তাদের ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা।
নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)।
বুধবার বিকেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মরিশাসের সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ডেফি মিডিয়া’ ও ‘ল্য মরিসিয়েন’ এ খবর প্রকাশ করেছে।
‘ল্য ডেফি মিডিয়া’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি একটি বাক্স সরানোর কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বাক্সটি তাদের ওপর পড়ে যায়। এতে তিন শ্রমিকই চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ‘ল্য মরিসিয়েন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকেরা কনটেইনার থেকে ৪১টি কাচের পাতযুক্ত একটি বাক্স বের করছিলেন। প্রতিটি কাচের পাতের আকার ছিল ৬ ফুট বাই ৮ ফুট। এসময় ভারী বাক্সটি হঠাৎ উল্টে তাদের ওপর পড়ে। কাচের পাতগুলোসহ বাক্সটির চাপের নিচে পড়ে তিন শ্রমিকের কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি।
খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাইয়েস পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তিনজনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কী পরিস্থিতিতে ভারী কাচের বাক্সটি শ্রমিকদের ওপর পড়ে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্তে কর্মস্থলে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, এ ধরনের ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের এ কাজের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও তদারকি ছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দায়ও নির্ধারণ করা হতে পারে।
নিহতদের লাশ দেশে পাঠানো এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।