মহামহিম আল্লাহর ক্ষমতা
আগে যখন বিদ্যুতের আলো ছিল না, বায়ু দূষণ ছিল না, তখন অন্ধকার পরিষ্কার রাতে আকাশ হতো এক কল্পনাতীত সুন্দর ছবির ক্যানভাস। আমাদের ছায়াপথ এবং মহাবিশ্বের কোটি কোটি তারায় ভরা রাতের আকাশ দেখে, যে কারো মনে সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতো। যারা সময় নিয়ে, মুগ্ধ হয়ে, রাতের এই অসাধারণ সুন্দর, সুশৃঙ্খল আকাশের ছবি, অনন্ত নক্ষত্র বীথি দেখতেন, গভীরভাবে চিন্তা করতেন: কীভাবে এটা তৈরি হলো? কীভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে? কীভাবে এটাকে এত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে? —তাদের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন হতো না যে, এর পেছন এক অসীম সৃজনশীল, প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী কেউ রয়েছেন। যিনি একাই এটি তৈরি করেছেন এবং যিনি একাই সবসময় এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
যারা পৃথিবী ঘুরে দেখেছেন, তারা উপলব্ধি করেছেন এই পৃথিবীটা আসলে কত বড়। এই পৃথিবীর আকৃতির তুলনায় আমরা হচ্ছি অনেকটা একটা বিরাট ফুটবল মাঠে পড়ে থাকা এক কণা ধুলোর সমান। আর এই পৃথিবীটা আমাদের সৌরজগতের তুলনায় এতই ক্ষুদ্র যে, সৌরজগত যদি একটা বিরাট ফুটবল মাঠ হয়, তাহলে পৃথিবীটা হবে একটা ছোট মার্বেলের সমান। আর আমাদের সৌরজগত যেই ছায়াপথে আছে, সেটা এত প্রকাণ্ড আকৃতির যে, সেটাকে একটা ফুটবল মাঠ কল্পনা করলে আমাদের সৌরজগত তার তুলনায় হয়ে যাবে একটা ধূলিকণার সমান। এরকম হাজার কোটি সৌরজগত নিয়ে আমাদের ছায়াপথ প্রচণ্ড বেগে ঘুরছে।
এরকম প্রকাণ্ড ছায়াপথ একটি-দুটি নয়, হাজার-হাজার কোটি ছায়াপথ নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব। আমরা এখনো পুরো মহাবিশ্ব দেখতে পারিনি, কোনোদিন পারবোও না। মহাবিশ্বের সব কিছুই মানুষের কল্পনার সীমার বাইরে প্রকাণ্ড সব আকৃতি। পৃথিবী ছেড়ে মহাশূন্যে বের হলেই আমরা এমন বিশাল সব আকৃতি এবং অনন্ত শূন্যতার মধ্যে গিয়ে পড়ি যে, সব কিছুই তখন মানুষের চিন্তার সীমার বাইরে চলে যায়।
এর রাতে আধার দিয়েছেন এবং এর দিনের উজ্জ্বলতা প্রকাশ করেছেন
রাত হওয়াটা একটা বিরাট ঘটনা। আমরা যেই ছায়াপথে আছি, সেটাতেই বিশ হাজার কোটির বেশি তারা আছে। আর এই রকম অকল্পনীয় সংখ্যার তারা নিয়ে তৈরি বিশাল বিশাল ছায়াপথ মহাবিশ্বে আছে হাজার-হাজার কোটি। আমরা আকাশের যে দিকেই তাকাই না কেন, প্রতিটি বিন্দুতেই অসংখ্য তারা রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে: কেন আকাশের প্রতিটি বিন্দু জ্বল জ্বল করছে না?
মহাবিশ্ব এত প্রচণ্ড বেগে সম্প্রসারিত হচ্ছে যে, আমাদের ছায়াপথ থেকে অন্য অনেক ছায়াপথ আলোর থেকেও বেশি দ্রুত বেগে দূরে সরে যাচ্ছে। যদি তা না হতো, তাহলে আকাশের প্রতিটি বিন্দুতে নক্ষত্র থেকে আসা আলো দেখতে পেতাম। পুরো আকাশের প্রীতিটি বিন্দু নক্ষত্রের আলোতে জ্বল জ্বল করতো, কোথাও কোনো অন্ধকার থাকতো না। আজকে আমরা রাতের আঁধার উপভোগ করতে পারছি, কারণ মহাবিশ্ব প্রতি মুহূর্তে আলোর গতিবেগের থেকেও বেশি জোরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। একারণে আকাশের অনেক জায়গায় এখনো নক্ষত্র থেকে ছুটে আসা আলোর রশ্মি আমাদের কাছে পৌঁছুতে পারেনি। সেই জায়গাগুলো একারণেই অন্ধকার।