বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

কোরআনের আলো

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 23 ফেব্রুয়ারি 2022, 05:16 বিকাল 477 বার পঠিত
কোরআনের আলো

আল্লাহ্ তালা ইরশাদ করেন,

وَلا تَـهِـنُـوا وَلا تَـحْزَنُـوا وَأنْتُـمُ الأعْـلَونَ إنْ كُـنْتُـم مُّـؤْمِـنيـنَ . إنْ يَّـمْـسَـسْكُـمْ قَـرْحٌ فَـقَـدْ مَـسَّ القَومَ قَـرْحُ مِّـثْـلُـه ج وَتِـلْـكَ الأيَّـامُ نُـداوِلُـها بَـيْـنَ الـنَّـاسِ...

আর তোমরা ভেঙ্গে পড়ো না এবং বিষণ হয়ো না। তোমরাই তো জয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা আহত হয়ে থাকো তাহলে (পেরেশানির কী আছে!) লোকেরাও (আগে) এরূপ আহত হয়েছে। আর দিনকাল তো আমি লোকদের মাঝে আবর্তিত করি। ....  (আলে ইমরান, ৩/১৪০)

ফায়দা

জীবন ও জগতের বিধান মুমিন-অমুমিন সবার জন্য অভিন্ন। জাতীয় দুর্যোগ অন্যদের জীবনে যেমন আসতে পারে, তেমনি আসতে পারে আমাদের জীবনে, উম্মাহর যিন্দেগিতে। সুতরাং কোন বিপদে দুর্যোগে ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়; অন্যদের তো কোন ঊর্ধ্বজাগতিক আশ্রয়স্থল নেই। তারপরো তো তারা পরাজয়ে মুষড়ে পড়েনি, নতুন বলে বলীয়ান হয়ে ময়দানে এসেছে। মুমিনদের জন্য তো রয়েছে আশ্বাস ও আশ্রয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করার উপর রয়েছে আজর ও ছাওয়াব। সুতরাং মুমিনদের মুষড়ে পড়ার বা বিষণ হওয়ার সুযোগ কোথায়!

তাছাড়া জীবন ও জগতের বিধানই আল্লাহ্ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, একবার একদল জয়ী হবে, আবার অন্যদল জয়ী হবে। যেমন বদরে মুসলিমগণ জয়ী হয়েছে, অহুদে কাফিরদের পাল্লা কিছু ভারী হয়েছে। এটা আসলে জাগতিক কারণ ও কার্যকারণের উপর নির্ভর করে। পার্থক্য হলো মুমিনীনের জন্য জয়ের মধ্যে যেমন কল্যাণ, পরাজয় ও বিপদ-দুর্যোগের মধ্যেও কল্যাণ, যদি তারা ছবর করে, ইসতিগফার করে এবং ভুলত্রুটির সংশোধন করে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় ক্ষেত্রে শেষ ফল মুমিনীনের অনুকূলেই হবে।

আমাদের কর্তব্য হলো, বিপদ ও দুর্যোগ কেন এসেছে, কোথায় ছিলো ত্রুটি ও বিচ্যুতি এবং দুর্বলতা ও শৈথিল্য, এগুলো চিন্তা করে সংশোধনের পথে আত্মনিয়োগ করা।

মুমিনীনের জন্য আয়াতের সবচে’ বড় আশ^স ও সান্ত¡না এই যে, জয় -পরাজয় উভয় অবস্থায়ই অন্যদের উপর মুমিনীনের তাপ ও প্রতাপ বজায় থাকার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে; শর্ত শুধু এই যে, তাদের প্রকৃত ঈমানদার হতে হবে এবং ঈমানের দাবী ও তাকাযার উপর অবিচল থাকতে হবে। মুসলিম উম্মাহর সমগ্র ইতিহাস এ আয়াতেরই সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।

 

তথ্যকণিকা

* সূরাতু আলে ইমরানের আয়াতসংখ্যা দুশ। এটি মাদানী সূরা। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, মুফাস্সিরীনের ইজমা রয়েছে যে, প্রথম থেকে তিরাশি পর্যন্ত আয়াত নাজরানের প্রতিনিধিদল সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা মদীনায় এসেছিলো হিজরতের নবম বছর।

* অহুদযুদ্ধে প্রথম পর্বে মুমিনীনের বিজয় ছিলো সুস্পষ্ট। কিন্তু একটা ভুলের কারণে যুদ্ধের পাল্লা শেষ পর্যন্ত কাফিরীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ভুল ছিলো এই যে, পঞ্চাশজন তিরান্দায, যাদের প্রতি আদেশ ছিলো, জয় হোক বা পরাজয়, কোন অবস্থাতেই তারা যেন তাদের স্থান থেকে না নড়ে। কিন্তু জয়ের আনন্দে তাদের একাংশ ঐ আদেশ ভুলে গিয়ে গনীমতের মাল জমা করার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। মুশরিকপক্ষের খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ বিষয়টা লক্ষ্য করে ঐ ফাঁকা পথে পিছন থেকে মুসলিম বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

* অহুদযুদ্ধে সত্তরজন ছাহাবী শহীদ হয়েছেন।

قَـرْح ٌ এ আয়াতে দুবার এবং আলে ইমরানেরই ১৭২ নং আয়াতে একবার, এভাবে  মাত্র তিনবার এসেছে।

إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن এর সম্পর্ক হলো لاتَـهِـنُـوا ولا تَـحْـزَنُوا এর সঙ্গে। অর্থাৎ إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن فَلاتَـهِـنُـوا ولا تَـحْـزَنُوا

কিংবা وَأنْـتُـمُ الأعْلَوْنَ এর সঙ্গে।

অর্থাৎ إنْ كُـنْـتُـم مُـؤْمِـنِـيـن فَأنْـتُـمُ الأعْلَوْنَ

* আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়েছে গাযওয়া অহুদ উপলক্ষে মুমিনদের সান্ত¡না দেয়ার জন্য।

إن يمسسكم قرح فقد مسَّ القومَ قـرح مثـله এখানে ইশারা হতে পারে বদরের দিকে। অর্থাৎ যদি অহুদে তোমরা হতাহত হয়ে থাকো, তাহলে বদরে তো ওরা হতাহত হয়েছে। আবার অহুদের দিকেও ইশারা হতে পারে। অর্থাৎ যদি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তোমরা আক্রান্ত হয়ে

থাকো তাহলে প্রথম দিকে তো ওরা পর্যুদস্ত হয়েছিলো

 

কোরআন সম্পর্কে

সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তেমনি কোরআনের প্রতিটি আয়াতই আসলে একটি করে মুজিযা। প্রতিটি আয় সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তে সমগ্র কোরআন যেমন একটি মুজিযা। তেমনি কোরআনের প্রতিটি আয়াতই আসলে একটি করে মুজিযা। প্রতিটি আয়াতেরই শব্দসমাবেশের মধ্যে রয়েছে এমন অপূর্ব এক সুরছন্দ, যা রক্ষা করা মানুষের কালামে কখনো সম্ভব নয়। একজন সঙ্গীতবিশেষজ্ঞ শুধু কোরআনের আয়াতের সঙ্গীতসৌন্দর্য এবং সুরসঙ্গতি অনুধাবন করেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন যে, এটা তো মানুষের কালাম হতে পারে না।

আসলে, আল্লাহ্ যাকে হিদায়াত দান করেন, কোন না কোন ওছিলায় তার সামনে কোরআনের সত্যতা উদ্ভাসিত করে দেন, আর ইসলাম তার অন্তরে প্রবেশ করে। আল্লাহ্ যেন কোরআনের সর্বসৌন্দর্য অনুধাবন করার তাওফীক আমাদের দান করেন।