বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

হজের সফরে দোয়া কবুলের স্থানগুলো

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 20 এপ্রিল 2026, 12:10 দুপুর 91 বার পঠিত
হজের সফরে দোয়া কবুলের স্থানগুলো

হজের সফর এক প্রেমময় সফর। আল্লাহ প্রেমিকরা নিজের দেশ, মাটি ও পরিবার ছেড়ে মহান আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পবিত্র ভূমিতে উপস্থিত হয়। বান্দার এই ত্যাগ ও বিসর্জনের প্রতিদান হিসেবে মহান আল্লাহও বান্দার ডাকে সাড়া দেন। তাই আলেমরা বলেন, হজ দোয়া কবুলের উত্তম সময়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের কয়েকটি স্থানের বর্ণনা দেওয়া হলো।

হজের সফরে হাজিরা যেসব স্থানে সফর করে তার মধ্যে কয়েকটিকে দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন-

১. তাওয়াফের সময় : আবদুল্লাহ বিন সায়িব (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুই রুকনের মাঝে (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ) বলতে শুনেছি, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৮৯২)

২. সায়ি করার সময় : একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, মহানবী (সা.) সায়ি করার সময় সাফা পর্বতে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করেছিলেন। এই সময় দোয়া কবুল হয়। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৯৮৫)

৩. আরাফার ময়দানে : আরাফার ময়দান দোয়া কবুলের উত্তম স্থান। মহানবী (সা.) আরাফার ময়দানে দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আরাফার দিনের দোয়াই উত্তম দোয়া। আমি ও আমার আগের নবীগণ যা বলেছিলেন তার মধ্যে সর্বোত্তম কথা হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন অংশিদার নেই, সার্বভৌমত্ব তারই এবং সমস্ত কিছুর ওপর তিনি সর্বশক্তিমান।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৮৫)

হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) আরাফার ময়দানে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিনীত হয়ে দোয়া করেছেন।

৪. মুজদালিফায় দোয়া করা : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হজের বর্ণনা দিয়ে জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘অতঃপর তিনি কাসওয়ার (উটনি) পিঠে আরোহন করে ‘মাশআরুল-হারাম’ নামক স্থানে আসেন। এখানে তিনি কিবলামুখী হয়ে দোয়া করলেন, আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাঁর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালেমা তাওহিদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২১৮)

৫. দুই জামরার মাঝে : হাদিসে এসেছে, আইয়ামে তাশরিকের দিন ছোট জামরা ও মধ্যম জামরায় পাথর নিক্ষেপের সময় মহানবী (সা.) দোয়া করেছেন। তিনি পাথর নিক্ষেপের পর কেবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দীর্ঘ সময় দোয়া করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৫৩)

৬. রিয়াজুল জান্নাতে : মহানবী (সা.)-এর রওজা সংলঘ্ন রিয়াজুল জান্নাত দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এই সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান। আমার মিম্বর হাউজের ওপর স্থাপিত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৩৩৫)

হাজিদের দোয়া কবুল হয়

সুনির্দিষ্ট স্থান ছাড়াও পুরো হজের সফরই দোয়া কবুলের সময়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘হজ্জযাত্রীরা ও ওমরাহর যাত্রীরা আল্লাহর প্রতিনিধি দল। তারা তাঁর কাছে দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর কাছে মাফ চাইলে তিনি তাদের ক্ষমা করেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৮৯২)

এছাড়াও হাজিগণ সফর অবস্থায় থাকে। আর সফরের সময় দোয়া কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া সন্দেহাতীতভাবে কবুল হয় : ১. (সন্তানের জন্য) পিতার দোয়া, ২. মুসাফিরের দোয়া এবং ৩. মাজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৩৬)

উলামায়ে কেরাম বলেন, দোয়া কবুলে শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আদবের সঙ্গে বিনীত হয়ে দোয়া করা। আল্লাহ সব হাজিকে হজের বরকত লাভের তাওফিক দিন। আমিন।