বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বৃহস্পতিবার থেকে কারখানায় ফিরতে শ্রমিকদের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 04 নভেম্বর 2026, 03:18 দুপুর • 7 বার পঠিত
বৃহস্পতিবার থেকে কারখানায় ফিরতে শ্রমিকদের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে যেসব কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষই বোর্ডের সুপারিশ মেনে নেবে বলে তাকে জানিয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।শ্রমিকদের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আপাতত এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতেও পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে তা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। শ্রমিকনেতাদের মাধ্যমে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। সরকার সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তায় নেমে আসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। তাই শ্রমিকনেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মালিকদের উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদেরও কারখানা খুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শ্রম অসন্তোষের পেছনে শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে চায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে সরকার কাজ থামিয়ে রাখেনি। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মাথায় বুধবার বৈঠক হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মজুরি বোর্ডের সুপারিশ মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষ মেনে নেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি বোর্ডে রয়েছেন। তারা আগেই সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে দ্রুত সব কারখানায় উৎপাদন চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী।