মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আগামী বছরের মধ্যে, ঢাকায় আলোচনা শুরু

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 27 অক্টোবর 2026, 11:12 দুপুর • 2 বার পঠিত
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আগামী বছরের মধ্যে, ঢাকায় আলোচনা শুরু

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ‘আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনের প্রথম দফার আলোচনায় বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ বিষয়টি তুলে ধরেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, “গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

“প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হল।”

আলোচনায় মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ‘চিফ নেগোশিয়েটর’ রশিদি সাইদ। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘চিফ নেগোশিয়েটর’ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) সই হয়।

সেখানে বাণিজ্য সচিব বলেন, “স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

“দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।”

এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)’ এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর রশিদি সাইদ বলেন, “প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ।”

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।

এফটিএ হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে রশিদি সাইদ আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফার এ আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।