যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চাইছে লেবাননও
লেবানন ও ইসরায়েলি দূতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বৈঠকে বৈরুত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ’র মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়াতে চাইবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে এ বৈঠকের আগের দিনই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৫ জনের নিহত হওয়ার খবর মিলেছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননে যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল তা রোববার শেষ হওয়ার কথা। এ বিরতির কারণে দেশটিতে সহিংসতার পরিমাণ অনেকখানি কমলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী স্বঘোষিত একটি ‘বাফার জোনের’ দখল নিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বলছে, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ গড়ার অধিকার’ রয়েছে তাদের।
১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বুধবার অন্যতম প্রাণঘাতী দিন দেখেছে লেবানন। এদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক আমল খলিলও আছেন বলে লেবাননের এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও খলিলের নিয়োগদাতা সংবাদপত্র আল-আখবার নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ এ যুদ্ধে যোগ দিলে গত ২ মার্চ ইসরায়েল ও ইরানসমর্থিত এ গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন সংঘাত শুরু হয়।
তেহরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের চেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের পৃথক চেষ্টায় পরে লেবাননে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যে কোনো চুক্তি হলে তাতে লেবাননকে থাকবে বলে তেহরান আগে থেকেই বলে আসছিল।
হিজবুল্লাজ বুধবার দক্ষিণ লেবাননে চারটি অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে। ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিযান হয়েছে বলে ভাষ্য তাদের।
২ মার্চ ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ’র হামলার পর ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত লেবাননে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার লম্বা একটি ভূখণ্ড দখল নিয়ে বলছে, হিজবুল্লাহ’র হামলা থেকে উত্তর ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই তারা এ ‘বাফার জোন’ গড়ে তুলেছে। ২ মার্চের পর যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছুড়েছিল।
তাদের শক্ত বিরোধিতা সত্ত্বেও লেবাননের সরকার পরে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ১৯৮২ সালে এ শিয়া সামরিক-রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে বৈরুতের প্রতিনিধিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদ। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পাশাপাশি লেবাননের দক্ষিণের গ্রামগুলোতে ইসরায়েল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তা বন্ধের আহ্বান জানাবেন।
লেবাননের এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের পর পরবর্তীতে আরও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চায় বৈরুত। ওই পর্বের বৈঠকে লেবানন ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ইসরায়েলে আটক লেবাননের নাগরিকদের দেশে ফেরানো ও স্থলসীমান্ত চিহ্নিত করার দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে।
ইসরায়েল বলছে, লেবাননের সঙ্গে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং শান্তি চুক্তির শর্তাবলী ঠিক করাও আছে।
হিজবুল্লাহ’র ব্যাপারে লেবানন সরকারের সঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়াতে চাইছে তেল আবিব। গত এক বছর ধরে বৈরুত শান্তিপূর্ণ উপায়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চেষ্টা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র থাকার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিল লাইতার।