শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস: ৫ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 16 অক্টোবর 2026, 01:06 দুপুর • 7 বার পঠিত
যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস: ৫ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধিদপ্তরের একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অফিস সহায়ক। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজন চাকরিপ্রত্যাশী।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে ভাষ্য এসআরবির।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি।

‘মূল উৎস’ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রুবেল ইসলাম কাজ করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে।

এনবিআরের তিনজন হলেন কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০)। আসাদুল ইসলাম (৩৩) নামে আরেক অফিস সহায়ক কাজ করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

চাকরিপ্রত্যাশী দুজন হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।

ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গত ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল, মফিজুল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে ছড়ায় প্রশ্নপত্র

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তারদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান।

এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের সদস্য ও তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজন যুক্ত ছিলেন বলে এসআরবির ভাষ্য।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাত।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস জানতে চাইলে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক বলেন, নূর মোহাম্মদ সকালে যে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, সেটি কে দিয়েছিল, তা তদন্তের পর পুরোপুরি বলা যাবে।

নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে তারা প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল।

তারা ফেইসবুকের যেসব গ্রুপ ও আইডির কথা বলেছেন, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “আমরা চেষ্টা করব, মূল যে জায়গা থেকে এই প্রশ্নটা ফাঁস হয়েছে, সেই তথ্যটা বের করে নিয়ে আসার জন্য।”

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের এ ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।