যেভাবে গ্রেপ্তার টিপু হত্যার অভিযুক্ত খুনি আকাশ
আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করে ঢাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন আকাশ। জয়পুরহাট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিতে ব্যর্থ হয়ে বগুড়ায় চলে যান। সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আকাশ।
রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবির)
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার টিপু হত্যার অভিযুক্ত খুনি আকাশকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা বর্ণনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিপু ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এর শিকার হয়েছেন। বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় টিপুকে। তিনি তার মাইক্রোবাসে ছিলেন। খুনি এলোপাতাড়ি গুলি করে তাকে হত্যা করে। গাড়ির ড্রাইভার মুন্নার শরীরে গুলি লাগলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এসময় পথে জ্যামে আটকে থাকা রিকশা আরোহী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২) গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে টিপু ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করা করেন চিকিৎসক।
আলোচিত এ ঘটনার জোর তদন্তে নামে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও শিগগিরই খুনিকে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। এর মধ্যেই সাফল্য পেল পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেলে এসে টিপুকে লক্ষ্য করে আকাশ গুলি করেন। দ্রুত কাজ শেষ করে বাইকে করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে আরেক সহযোগী ছিল। পুলিশ তার নাম জানলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি।
হাফিজ আক্তার আরো জানান, ঘটনা ঘটানোর আগের দিনও কমলাপুরে টিপুর আশেপাশে দুই সহযোগীকে মোটরবাইকে নিয়ে রেকি করে আকাশ। সেদিন হত্যার সুযোগ মেলেনি। পরের দিন আবার মোটরবাইকে করে টিপুকে অনুসরণ করে শেষমেষ তাকে খুন করতে সফল হন।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরের দিন তাকে কয়েকজন গাড়িতে করে জয়পুরহাটে দিয়ে আসে। সেখান থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তিনি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বগুড়ায় চলে যান। বগুড়া পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুনে অভিযুক্ত আকাশের বয়স ৩৪। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কাইশকানি এলাকায়। তার বাবা মোবারক হোসেন একজন স্কুল শিক্ষক।
রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আকাশকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।