ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল
মহানবী (সাঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদে আজ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল করে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। এর পর তারা ভারতীয় দূতাবাসের দিকে রওনা দেন।
মিছিলটি যখন চলছিল তখন বৃষ্টি শুরু হলেও তা উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে গেলে সেখানে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। সেখানেই এই বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি শেষ হয়।
এর পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তাদের দাবি দাওয়াসহ স্মারকলিপি দিতে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্দেশে রওনা দেয়।
আজকের মিছিলটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির রেজাউল করিম। কর্মসূচি থেকে যে দাবিগুলো জানানো হয় তার মধ্যে আছে বিজেপির দুই নেতা নূপুর শর্মা ও নাভিন কুমার জিন্দালকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া, ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ সরকারের তলব এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস।
নুপুর শর্মা ঘটনার কেন্দ্রে। তিনি ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন।
কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে।
আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান।
মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে। নিজেদের দেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে এখন চাপে তারা।