তেঁতুলতলা মাঠে ফিরেছে খেলাধূলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কলাবাগানের আলাচিত তেঁতুলতলার মাঠ ফের উন্মুক্ত সবার জন্য। আর সবার জন্য খোলা এই খেলার মাঠে শুক্রবার থেকে ফের খেলায় মেতেছে এলাকার কিশোররা।
মাঠের চারধারে দেয়াল তুলেছে পুলিশ। কিন্তু এখন আর এখানে পুলিশ উপস্থিতি নেই। এই মাঠ কলাবাগান থানা তৈরির সিদ্ধান্ত আপাতত বন্ধ। স্থাপনার কাজ তাই হচ্ছে না। পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তাই।
শুক্রবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখা যায় ১০/১২ কিশোর মিলে দুই ভাগে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলছে। অনেক দিন ধরে তারা এই মাঠে খেলতে পারে না। আবার খেলার সুযোগ পেয়ে খুশি তা জানাতেও ভুল হয় না তাদের।
মাঠটির বরাদ্দ পুলিশের। কিন্তু এই মাঠ রক্ষা আন্দোলনে নেমে কিশোর ছেলেসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন যে সংগঠক সেই সৈয়দা রত্না চান, মাঠটা কারো মালিকানায় না থাকুক। থাককু স্বতন্ত্র। আর খেলার মাঠ হিসেবে যুগ যুগ ধরে এটা টিকে থাকুক।
এলাকাবাসীর ভালো লাগছে সমাধানটা তাদের পক্ষে গেছে বলে। বিশেষ করে এলাকায় একটা খেলার মাঠের গুরুত্ব আলাদা। এলাকার ছেলেরা সেখানে খেলেতে পারছে দেখে খুশি অনেকে। মাঠের বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে খেলতে থাকা কিশোরদের উৎসাহও দিচ্ছিলেন কেউ কেউ।
স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের গলিতে তেঁতুলতলা মাঠ। খালি এই জায়গাটি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছিল পুলিশ।
তবে এই মাঠটি রক্ষার দাবিতে বেশ অনেকদিন ধরে আন্দোলন চলছিল। গত রোববার মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করা সৈয়দা রত্না ও তাঁর কিশোর ছেলেকে কলাবাগান থানার পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ১৩ ঘণ্টা তাদের থানায় রাখার পর প্রতিবাদের মুখে মুচলেকা নিয়ে মধ্যরাতে ছেড়ে দেয়।
এরপরও আন্দোলন থামেনি। কিন্তু পুলিশ বুধবার মাঠের চারপাশে দেয়াল তুলে ফেলে। আন্দোলনকারীরা বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করেন। বৈঠকে মন্ত্রী বিকল্প উপায় পেলে এই মাঠ উন্মুক্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
পরের দিন দুপুরে অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান যা বলেন তাতে আন্দোলনকারীদের জয় হয়। তিনি জানান, কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আপাতত কোনো স্থাপনা হচ্ছে না। হবে না কলাবাগান থানা। মাঠটি এলাকাকাবাসীর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।