সয়াবিন তেল উধাও
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম কিংবা দেশের অন্য কোনো জেলা, সবখানে আজ সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট। আগামিকাল ঈদ। কিন্তু রান্নায় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে তেল সেটি পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। এ এক আজব অবস্থা দাঁড়িয়েছে গোটা দেশে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চেয়েছে। গত কয়েকিদিন ধরে চলা সংকটটা তাদেরও চোখে পড়ে। এরপর রোববার সরকারি এ সংস্থা অভিযান চালিয়েছে ঢাকার কারওয়ান বাজারে। সেসময় একটি দোকানের গুদাম থেকেই দুই হাজার লিটার তেল উদ্ধার করেছে তারা।
শুধু কারওয়ান বাজারই নয়, মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে আবো বেশ কয়েকটি বড় বাজার থেকে তারা মজুদ করা তেল বের করেছে। এইসব দোকান ও মজুতদাররা তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছিল ক্রেতাদের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানালেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতারা তেলের মজুদ করছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেব। এধরনের দোকানগুলোকে এক মাসের জন্য বন্ধ রাখব।’
কিন্তু এসব হুমকি মজুতদার বা তেলের যারা সংকট তৈরি করল তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সিটি গ্রুপ, ফ্রেশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় সয়াবীন তেলের বাজার। তাদের দাবি, তাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তারা সয়াবীন তেলের জোগান দিচ্ছেন। তাহলে তেল যাচ্ছে কোথায়? এই প্রশ্নের জবাব তাদের জানা নেই।
তেল নেই অনলাইন ভিত্তিক নিত্যপ্রয়োজনীয় বেচাকেনার দোকানগুলোতেও। কোথাও বড় কষ্টে মিললেও নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি দিচ্ছে না। ঈদের আগে এই পরিস্থিতিতে পড়ে সাধারণ মানুষ বুঝে পাচ্ছেন না কি করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, যারা পাইকারি বিক্রি করেন তাদের কাছে গিয়ে খুচরা বিক্রেতারা ফিরে আসছেন। তাদেরও বলা হচ্ছে তেল নেই। কেউ কেউ উপায় না দেখে পরিচিত ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে খোলা তেল কিনছেন। কিন্তু সেটিও মিলছে না। যাও অনেক কষ্টে ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে তার দামও বাড়তি। সব মিলে দেশে সয়াবীন তেলের সংকট এখন চরমে।