স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ায়, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেশটির স্টুডেন্ট ভিসা পরিসংখ্যানে। এই ক্যাটাগরির ভিসার নতুন রেটিংয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তৃতীয় স্তরেই (লেভেল থ্রি) রয়ে গেছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ প্রধান উৎস দেশগুলো থেকে ভিসা মঞ্জুরের হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর বুধবার দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি রেটিং হালনাগাদ করেছে। নতুন এই মূল্যায়নে ২০২৫ সালের পহেলা জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের ভিসা ফলাফলের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ২১ বছরের ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, অগাস্টে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশিদের মাত্র ২৪ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন কমেছে ৮৩ শতাংশ, আর মঞ্জুর করা ভিসার সংখ্যা কমেছে ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়া বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকির (টিয়ার থ্রি) তালিকায় রয়েছে। এই ১০টি প্রধান উৎস দেশের মধ্যে একমাত্র চীন নিম্ন ঝুঁকির স্তরে (লেভেল ওয়ান) অবস্থান করছে।
এদিকে দেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয় স্তরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ২২টিতে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অভিবাসন চাপ কমানোর নীতি এবং কড়াকড়ির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর কোটা পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক দাবি করেছেন যে, আবেদনকারীদের পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার অভাব দূর করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এই উচ্চ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারকে ‘অস্বচ্ছ ও ব্যাখ্যাতীত’ বলে সমালোচনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় স্তরে থাকা মানেই বাংলাদেশিদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল নয়; বরং এর মাধ্যমে আবেদনপত্রের সঙ্গে কী পরিমাণ আর্থিক সচ্ছলতা ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে তা নির্ধারিত হয়। তবে ভিসা পাওয়ার এই শর্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত রেটিংয়ের কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পথ আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।