বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

সিলেট ভাসছে পানিতে, প্রাণে বাঁচতে চায় মানুষ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 18 জুন 2022, 12:19 দুপুর 309 বার পঠিত
সিলেট ভাসছে পানিতে, প্রাণে বাঁচতে চায় মানুষ

সিলেট ভাসছে পানিতে। বন্যায় আক্রান্ত জেলার একের পর এক এলাকা তলিয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিতে উজানের ঢলে বানভাসি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই। সেই সঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সঙ্কট। খাদ্য সঙ্কটের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উদ্ধার কাজে নৌকার সঙ্কটও দেখা দিয়েছে।

সিলেটবাসী বলছে, এমন বন্যা তারা কখনো দেখেননি। পানিবন্দি হয়ে আছেন কয়েক লাখ মানুষ। তেমনই একজনের বক্তব্য, ‘‘এমন বন্যা আগে কখনো দেখিনি। বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অনেক না খেয়ে দিন পার করছেন।’’ 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মুজিবুর রহমান জানান, ‘‘বন্যায় অনাহারে থাকা লোকজন এখন কেবল প্রাণে বাঁচতে চান। কিন্তু একটি নৌকা মেলানো তাদের কাছে এখন সোনার হরিণ।’’

একদিকে খাবার সঙ্কট, অন্যদিকে নৌকার অভাব যাতে করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া যায়। আর ক্রমে বাড়তে থাকা পানি তো মূর্তিমান আতঙ্ক। সব মিলে সিলেটের মানুষ এখন অসহনীয় একটা কষ্টের মধ্যে পড়ে গেছেন। 

এই বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বন্যার মুখে পড়েছে সিলেট। দ্বিতীয়বারের ভয়াবহতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবারের বন্যা। ভারতের মেঘালয় ও আসামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত চলছে। এই কারণে এবারের বন্যায় অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসন বলছে, এর মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

মানুষ এখন ত্রাণ চায় না। তারা প্রাণে বাঁচতে চায়। কিন্তু তাদের উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না। 

পানিতে বন্দি হয়ে থাকা মানুষকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীও। 

পানির কারণে জেলার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের নেটওয়ার্কও পাওয়া যাচ্ছে না। দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে লাখ লাখ মানুষের। 

এখন কেবল পানি থেকে বেঁচে আছে কিছু উঁচু জায়গা। এছাড়া সব জায়গায় পানি আর পানি। বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট তো আছেই। অভিযোগ উঠেছে ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে মুড়ি ছাড়া আর কোনো খাবার না পাওয়ার। এমনকি পানিও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। 

এদিকে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্ভাবাসে বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার সব জায়গায় বৃষ্টি হবে। এই বৃষ্টি কমতে পারে ২০ জুনের পর।

এই বন্যার মূল কারণ উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে লাগাতার প্রবল বৃষ্টিপাত। গত তিন দিনে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ওদিকে। শুধু চেরাপুঞ্জিতেই ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১২২  বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ওই অঞ্চলের পানি আন্তঃসীমান্ত নদী হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। এই কারণে আগামী কয়েকদিনে সিলেট অঞ্চলে বন্যার আরো অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।