বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

সীতাকুণ্ডে দগ্ধ আরো দুজনের মৃত্যু

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 12 জুন 2022, 06:22 বিকাল 403 বার পঠিত
সীতাকুণ্ডে দগ্ধ আরো দুজনের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে লাগা আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন থাকা আরো দুজন মারা গেছেন। একজন ঢাকায় আর অন্যজন চট্টগ্রামে মারা গেছেন। 

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ডিপোর কর্মী নুরুল কাদের মারা যান। এর আগে এদিন ভোর ৩টায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ফায়ার সার্ভিস কর্মী গাউসুল আজমের মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে সীতুকুণ্ড ট্র্যাজেডিতে মোট ৪৪ জন মারা গেলেন। এছাড়া আরো চারটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষার পর ফল পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গত ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে কয়েক শত মানুষ আহত হন। অনেকে এখন চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন। ভয়াবহ সেই আগুন নেভানো গিয়েছিল ৮৬ ঘণ্টার চেষ্টায়। 

চট্টগ্রামে পার্কভিউ হাসপাতালে নিহত নুরুল কাদের বিএম কনটেইনার ডিপোতে গাড়ির মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাঁশখালীর পূর্ব চেচুরিয়ার একেএম ফাইজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম। 

তিনি বলেন, রোববার দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল কাদের নামের আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। সকাল থেকে তার কন্ডিশন ভালো ছিল না। তাকে লাইফ সাপোর্টও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, একই দিন ভোরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গাউসুল আজম নামের ফায়ার সার্ভিসের আরও এক কর্মী। তিনি ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস, এম, আইউব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গাউসুলের শরীরে ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। সঙ্গে তাঁর শ্বাসনালি পুড়ে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে করে ঘটনার পরদিন তাকেসহ ৭ জনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ওই দিনই তাকে ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। পরবর্তীতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে দেওয়া হয় লাইফ সাপোর্ট। মাঝে কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু সর্বশেষ তাঁর অবস্থার আবার অবনতি হলে তাকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। 

গাউসুলের ফুপাতো ভাই কোরবান আলী জানান, তাদের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় খাইটুয়াডাঙা গ্রামে। ২০১৮ সালে ফায়ার ফাইটার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করে সে। মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছে সে। স্ত্রী কাকলী আক্তার। সিয়াম নামে ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাঁর। দুই ভাইবোনের মধ্যে গাউসুল ছিল ছোট। 

সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেদিন আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই তারা ছুটে যায় আগুন নেভাতে। সেখানেই বিস্ফোরণে দগ্ধ হন গাউসুল আজম। 

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন (শনিবার) রাত সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার কাশেম জুট মিল গেট এলাকায় অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে যান। এ সময়ই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।