শাবির বুলবুল হত্যার পেছনে নিছকই ছিনতাই : পুলিশ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কথাই জানানো হয়েছে।
ঘটনার সময় বুলবুলের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়াসহ নানা কারণে বিভিন্ন সন্দেহ দানা বেধেছিল। কিন্তু পুলিশ এটাকে সাধারণ এক ছিনতাইয়ের ঘটনাকালে মৃত্যু বলে উল্লেখ করছে।
এদিন বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে জানাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানায় এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পুলিশ আরও জানায়, এখন পর্যন্ত তারা এই ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি।
সোমবার সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী।
ওই ছাত্রী জানান, মাস্ক পরা তিনজন লোক এসে বুলবুলকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে। এরপর বুলবুলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুনের ঘটনায় তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করেছে। তবে তার আগেই বুলবুলের সহপাঠীরা আন্দোলনে নামে। তারা খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেয়।
হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় সোমবার রাতে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত এ মামলায় মোট পাঁচজনকে পুলিশ আটক করেছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের টিলারগাঁও এলাকার কামরুল ইসলাম (২৯), আবুল হোসেন (১৯) ও মোহাম্মদ হাসান (১৯)।
কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটনা হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, ‘‘এখন পর্যন্ত আমরা যেটা জেনেছি এটি একটি পরিপূর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা। আসামিরা আগে থেকেই সেখানে অবস্থানে ছিল। বিকাল ৪টা থেকে চারজন ছিল। সাড়ে ৪টায় দুজন চলে যায়। সন্ধ্যার পরে কামরুল সেখানে আসে। ছিনতাইকারীরা বুলবুলের কাছে টাকা ও মোবাইল দাবি করে। এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়। বুলবুলের শরীরে ও হাতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। এটা নিছক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা।’’