রাজবাড়ীতে মাদরাসার হেফজ খানায় আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
রাজবাড়ী শহরের দারুল উলুম ভাজনচালা মাদরাসার হেফজখানায় রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই মাদরাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ তথ্য জানিয়েছেন দারুল উলুম ভাজনচালা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইলিয়াছ মোল্লা। অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি বলে ইসলাম টাইমসকে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, হেফজখানার সাথে লাগোয়া গোডাউনের পাঠকাঠিতে হঠাৎ ভোরে আগুন দেখা যায়। তারপর গোডাউনে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে হেফজখানায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্ররা কোনোরকমে বাইরে এসে প্রাণে বেঁচে গেলেও পুড়ে যায় ভেতরে থাকা সকল জিনিসপত্র। তবে ঘরে থাকা কুরআন শরীফের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে হেফজখানার সঙ্গের রান্নাঘরে বড় চারটি গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে আগুন নিজে থেকেই লেগেছে, নাকি লাগানো হয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে। এছাড়া রান্নাঘরে আগুনের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
মাদরাসার ছাত্র শরিফুল ইসলাম বলেন, হেফজখানায় তারা প্রায় ৪০ জন রাতে পড়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ ভোরে ঘুম ভাঙলে দেখতে পান আগুন লেগেছে। সে সময় চিৎকার করে বাইরে চলে আসেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে সব পুড়ে যায়।
মাদরাসার শিক্ষক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পাটকাঠিতে আগুন দেখা গেলে তা নেভানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু অন্যপাশে গোডাউনেও হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে।

মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইলিয়াছ মোল্লা জানান, আগুনে হেফজখানার আসবাবপত্র, কিতাবসহ অন্যান্য বই পুড়ে গিয়েছে। এছাড়া গোডাউনে থাকা সব আসবাবপত্র পুড়ে গিয়েছে। সব মিলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা রান্নার চুলা থেকে আগুন লাগার কোনো চিহ্ন খুঁজে পাচ্ছি না। নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে তাও বুঝতে পারছি না।