বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধ চার্জগঠন

অনলাইন নিউজ পোর্টাল 12 নভেম্বর 2020, 01:25 দুপুর 197 বার পঠিত
প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধ চার্জগঠন

বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র বাদীর ছেলে নাইমুল আবরার (১৫) মুত্যুর মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক জনপ্রিয় সাহিত্যিক আনিসুল হককে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আসামিদের চার্জগঠন ও অব্যাহতির এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর চার্জগঠনের শুনানি হয়।

চার্জগঠন হওয়া অপর আসাসিরা হলেন- কবির বকুল, শুভাসিস প্রমানিক, মহিদুল আলম পাভেল, শাহপরান তুষার, কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে ডেকোরেশন ও জেনারেটর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জসিম উদ্দিন অপু, মোশারফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার। আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয়জন জামিনে ও অপর চারজন পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত বছর ৬ নভেম্বর নিহত নাইমুল আবরারের বাবা মো. মজিবুর রহমান ঢাকা সিএমএম আদালতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় এ মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের পর মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক আব্দুল আলীম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ১৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন।


মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র বাদীর ছেলে নাইমুল আবরার (১৫) গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোরদের মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে যান। সে ওই প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে সাড়ে তিনটার দিকে আবরার বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল। এরূপ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার যে নিরাপত্তামূলক ও সাবধানতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল তা করা হয় নাই। ঘটনাস্থলের অতি সন্নিকটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থাকলেও আবরারকে দূরবর্তী ‘মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে’ নিয়ে যান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গত ১ নভেম্বর ইস্যুকৃত মৃত্যুর সনদে দেখা যায়, নিহত আবরার ওই তারিখে ৪টা ১৫ মিনিটে ভর্তি হন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যেখানে আবরার সাড়ে ৩টায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়। আর মৃত্যুর সংবাদ জানার পরও মৃত্যুর সংবাদ গোপন রেখে সন্ধ্যে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আবরারের পরিবারকে ৭টার পর সহপাঠীর মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ জানানো ছিল পরিকল্পিত অবহেলাজনিত।

পরে বাদী ও তার পরিবার হাসপাতালে আসলে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর বাদী দ্রুত লাশ চাইলে মুচলেকা রেখে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। ফলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন হয়। পরবর্তী সময়ে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান হতে থাকে। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা গত ২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে।

আরও বলা হয়, বাদীর দৃঢ বিশ্বাস নাইমুল আবরারের মৃত্যু অপমৃত্যু নয়। বরং আসামিগণের চরম অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা, অযত্ন, অমনোযোগী, গাফলতি এবং অসাবধানতার কারণে ঘটেছে। যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪-এ ধারার অপরাধ।