সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

পেটে ৬ ‘স্বর্ণের ডিম’ ও ফ্রাইপ্যানে মিলল ৫ কোটি টাকার সোনা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 19 অক্টোবর 2026, 08:10 সকাল • 5 বার পঠিত
পেটে ৬ ‘স্বর্ণের ডিম’ ও ফ্রাইপ্যানে মিলল ৫ কোটি টাকার সোনা

একদিনেই প্রায় ৫ কোটি টাকার সোনা ও স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। দেশের দুই প্রধান বিমানবন্দরে চালানো পৃথক দুটি অভিযানে এসব চোরাচালান আটক করা হয়।

​সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোআল আমিন শেখ জানান, গত ১৮ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক চোরাচালানের এক অভিনব কৌশল উদ্ঘাটন করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

সকাল ৭টায় আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে অবতরণ করেন যাত্রী কামরুল ইসলাম।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন গোয়েন্দারা।

ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত সোনা থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে একটি ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ৪টি খণ্ডিত স্বর্ণবার (ওজন ৪৬৬ গ্রাম) উদ্ধার করা হয়।

ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম সোনা আটক করা হয়, যার শুল্ক-করাদিসহ আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা (৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা)।  ​সকালের এই রেশ কাটতে না কাটতেই ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মানবদেহের ভেতরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে স্বর্ণ বহনের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সবাইকে অবাক করে দেয়।

 সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুই যাত্রী-মোহাম্মদ সোলায়মান এবং জোবায়ের আহমেদ বিমানবন্দরে নামেন।

এসময় সন্দেহভাজন মনে হওয়ায় তাদের তল্লাশি করা হয়। পরবর্তীতে তাদের রেক্টামে (মলদ্বার) লুকানো অবস্থায় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩টি করে মোট ৬টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।

​ উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোর প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম (২.৭৩৪ কেজি), যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

​কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণের স্বার্থে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল বিশুদ্ধ স্বর্ণের সঠিক ওজন ও প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।