বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে বিএসইসিতে দুদকের অভিযান

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 02 মার্চ 2025, 11:24 রাত 176 বার পঠিত
অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে বিএসইসিতে দুদকের অভিযান

রোববার (২ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল, বিগত সরকারের সময়ে আইপিও অনুমোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তানজির আহমেদ এই তথ্য জানান।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বিএসইসি থেকে আইপিও অনুমোদন সংক্রান্ত নথি, কোম্পানির দাখিল করা প্রসপেক্টাস, নিরীক্ষা রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, কোম্পানির দাখিলকৃত বানোয়াট উপার্জন এবং উইন্ডো ড্রেসিং-এর মাধ্যমে তৈরিকৃত ব্যালেন্স শিটের বিপরীতে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিকিউরিটিজ বাজারে ব্যাপক অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যা ডিএসই-এর সুপারিশ ও অবজারভেশনকে উপেক্ষা করে ঘটেছে।

দুদক জানায়, “এছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্ট জালিয়াতি ও বাণিজ্য, অধিক মূল্যে শেয়ার প্রাইস নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ ও অল্প সময়ে শেয়ার বিক্রয়, প্রাইসের দ্রুত অবনমন-এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”

দুদক বলছে, “দুর্বল কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেওয়ায় ক্যাপিটাল মার্কেট প্রবেশের অল্প দিনেই তাদেরকে নিম্ন মানের কোম্পানি হিসেবে জেড ক্যাটাগরিতে ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের প্রস্তুত করা উইন্ডো ব্যালেন্স শিট ও বানোয়াট উপার্জন রিপোর্ট ও ইস্যু ম্যানেজার কর্তৃক তৈরি করা অতিমূল্যায়িত কোম্পানি প্রোফাইলের প্রেক্ষিতে অনিয়মের আশ্রয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক আইপিও অনুমোদন করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।”

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তানজির আহমেদ বলেন, “দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম তাঁদের সমস্ত রেকর্ড পর্যালোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে। এরপর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”

উল্লেখযোগ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ চার বছর বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাকে মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডকে ব্রোকার হাউজের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুদক মামলায় আসামি করেছে।

এছাড়া, বিএসইসির একাধিক বিষয় নিয়ে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে, যার মধ্যে বেক্সিমকোর সুকুক এবং আইএফআইসি আমার বন্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বেক্সিমকোর গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানও বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দুদকের এই তদন্ত দেশের পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি বহন করছে।