অবশেষে এনসিপিতে আসিফ মাহমুদ, অংশ নেবেন না নির্বাচনে
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অবশেষে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন।
সোমবার বাংলা মোটরে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের ভোট না করার ঘোষণাও দেন তিনি।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন সেটি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। সেই জায়গা থেকে আজকে যোগদান করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে আসিফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা নির্বাচন করবেন না তাদেরকে নিয়ে তিনি এই গুরু দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, আসিফ আগেই পদত্যাগ করেছেন সরকার থেকে। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দিলেন।
“আমরা আশা করব আসিফ মাহমুদের সাথে আমাদের এই পথচলা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে গত ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেদিন আরেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও পদত্যাগ করেন। সেই থেকে আলোচনা ছিল এ দুই উপদেষ্টা কোন দলে যোগ দেবেন তা নিয়ে।
আগের দিন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পর মাহফুজ আলম ফেইসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি এই এনসিপির অংশ হতে চান না। আর পরদিন আসিফ জানালেন তিনি অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত দল এনসিপিতে যোগ দেবেন।
অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই ছাত্রনেতা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। আসিফ প্রথম থেকেই উপদেষ্টা ছিলেন। আর মাহফুজ প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। পরে উপদেষ্টা হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন, দায়িত্ব পালন করেন তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে।
আসিফ দলে যোগ দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এনসিপি নির্বাচনী যাত্রায় পুরোপুরি ঢুকে পড়েছে। এই নির্বাচনকালীন দলের কর্মকাণ্ড সামলানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি (আসিফ)। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা নির্বাচন করবেন না তাদেরকে নিয়ে তিনি এই গুরু দায়িত্ব পালন করবেন।”
এর আগে বক্তব্যে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বলেন, যেহেতু তিনি ওসমান হাদির সেই ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- তাই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের পদ ছাড়ছেন।
আসিফ মাহমুদ ঢাকা ১০ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কুমিল্লাতেও তার পক্ষে মনোনয়ন নেওয়া হয়েছিল।
এসব আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিচ্ছে কী না জানতে চাইলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, “আমাদের এই নির্বাচনকালীন সময়ে কাউকে না কাউকে তো দায়িত্বটা পালন করতে হবে। আসিফ নিজে নির্বাচন না করে এই দায়িত্বটা পালন করবেন। ৪৭টি মনোনয়নপত্র সাবমিট হয়েছে এনসিপির পক্ষ থেকে। আমার জানামতে সেই দুটো আসন নেই এই ৪৭টির মধ্যে। সেখানে জোটের প্রার্থী থাকবে। আমরা জোটের প্রার্থীকে সহায়তা করব।”
আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি
জামায়াতের সঙ্গে কতটি আসনের সমঝোতা হযেছে এবং এই জোটের সমঝোতার কারণে এনসিপির যারা ভোট করতে পারছেন না তাদের বিষয়ে দল কী ভাবছে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এনসিপির সারাদেশের নেতাকর্মীরা গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করবে এবং জোটের থেকে যেই প্রার্থী থাকুক না কেন আমরা তার পক্ষে সবাই মিলে কাজ করব।
“এটা দলের স্বার্থে এবং এই সময়ে আমরা যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতেই। দলের স্বার্থে ও রাজনীতির স্বার্থে সবাই বিষয়টা মেনে নিবেন। তাদের যে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ সেটা অবশ্যই দল পরবর্তীতে মূল্যায়ন করবে।”
সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে নাহিদ বলেন, “আমাদের ৪৭টি মনোনয়নপত্র সাবমিট হয়েছে। আমাদের আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা কিছুটা বাড়িয়েই মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছি। অনেকেরটা বাতিল হতে পারে, অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে যে এনসিপি কয়টি আসনে প্রার্থী হবে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।”