বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

নীল নদের বাঁধ বদলাবে তিন দেশের ভাগ্য

অনলাইন নিউজ পোর্টাল 04 জুলাই 2020, 01:36 দুপুর 984 বার পঠিত
নীল নদের বাঁধ বদলাবে তিন দেশের ভাগ্য

নীল নদের অন্যতম প্রধান উপনদ ব্লু নীলের ওপর তৈরি গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধটি হচ্ছে আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। শিগগিরই এটি ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা ইথিওপিয়ার এখনকার মোট উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি।

মিসর তাদের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ পানির জন্য নীল নদের ওপর নির্ভরশীল। তারা ইথিওপিয়ার বাঁধটিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করছে। ২০১১ সালে বাঁধের নির্মাণকাজ শুরুর পরপরই কায়রো এতে বাধ সাধে, এমনকি সাবেক এক মিসরীয় প্রেসিডেন্ট এতে বোমা হামলারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জলাধার কত দ্রুত পূরণ করা হবে, কতটা পানি ছাড়া হবে এবং সম্ভাব্য বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে তা নিয়ে আলোচনায় বসেছে ইথিওপিয়া, মিসর ও সুদান। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও চুক্তি হয়নি। 

তবে বিশ্বস্ততা এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা। মিসরের লোকজন নীল নদের ওপর নিজেদের জন্মগত অধিকার রয়েছে বলে মনে করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মিসরীয়রে মধ্যে জনপ্রতি পানি সরবরাহের হার বেশ কমে এসেছে। দেশটির দাবি, ইথিওপিয়া যেন জলাধারটি ধীরে ভর্তি করে এবং নদের পানিপ্রবাহে যেন কোনও সমস্যা না হয়, বিশেষ করে খরার সময়। কায়রো মনে করে, বাঁধের কাজ চলার মধ্যেই ইথিওপিয়া আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে নিজেদের দরাদরির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। ইতোমধ্যেই গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান বাঁধের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এদিক থেকে সুদানের অবস্থান বেশ নমনীয়। সীমান্তের ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী এ বাঁধ নির্মাণের পক্ষেই রয়েছে তারা। কারণ, সেখান থেকে বেশ সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে সুদান। এছাড়া, সুনিশ্চিত পানি সরবরাহে ফসল উৎপাদনও বাড়বে তাদের। তবে, একটি উদ্বেগও রয়েছে। নতুন বাঁধের কারণে সুদানের নিজস্ব রোজেইরেস বাঁধে পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটি।

বলা হচ্ছে, গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান বাঁধ নিয়ে তিন দেশ একটি চুক্তির ৯০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। বর্ষার সময় কী হবে তা নিয়ে খুব একটা সমস্যা না থাকলেও মূল বিরোধ খরার সময় পানি সরবরাহ নিয়ে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সালিশ হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধান। আর সেই কাজটি করে দিতে পারে আফ্রিকান ইউনিয়ন। বিশ্লেষকদের মতে, একবার চুক্তি হয়ে গেলেই বদলে যাবে এ অঞ্চলের চেহারা। গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধের হাত ধরে তিন দেশের জন্যই উন্মুক্ত হতে পারে বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার।