মঙ্গল শোভাযাত্রায় সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা
রাতদিন খেটে চারুকলার ছেলেমেয়েরা কতো কিছুই না বানিয়েছেন। মুখোশের বাঘ, পেঁচা, ঘোড়া, মাছ আরো কতো কি। এর মধ্যে আছে রাজা-রানীর গল্প বলার চেষ্টা। বৈশাখের প্রথম প্রভাতে পিথে ছড়িয়ে পড়ল গান, ‘নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’।
এভাবেই আজ বৃহস্পতিবার ১৪২৯ বাংলা বছর বা বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর এসব পথঘাট পহেলা বৈশাখের আনন্দে জেগে উঠতে পারেনি। এবার বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা অবশ্য একটু ভিন্ন পথ ধরে এগিয়েছে।
মেট্রোরেলের কাজ চলছে বলে শাহবাগ থেকে টিএসসি নয়, টিএসসি থেকে নীলক্ষেতের দিকে চলেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। সকাল সকাল ৯টা ১ মিনিটে টিএসসির
সড়ক দ্বীপের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে শুরু হয় এই যাত্রা। ভিসি চত্বর ঘুরে আবার একই জায়গায় এসে শেষ হয়।
বৈশাখী সাজ পোশাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন শোভাযাত্রায়। বাদ্যযন্ত্রে মুখরিত হয়ে উঠেছিল চারদিক। চলছিল নৃত্য। হাতে হাতে ছিল নানা ধরনের মুখোশ। এছাড়া ছিল চরকি থেকে শুরু করে আরো কতো কি।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে এখানে বাংলা বর্ষবরণের উৎসব হতে পারেনি। পরের বছর মানে ২০২১ সালেও পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূলে। তাই পরপর দু্ বছর বাতিল হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। গতবার মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও তা ছিল প্রতীকী। সবাই অংশ নিতে পারেননি।
ভাইরাসের সংক্রমণ এই দেশে কমেছে। আর তাই এই বছর পহেলা বৈশাখ ফিরেছে চির চেনা চেহারা নিয়ে। সকাল থেকেই রমনা বটমূল, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে লাল-সাদা মানুষের মিলনমেলায়।
এবার অবশ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাতেও ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। পুলিশ, র্যাব ও সোয়াটের সদস্যরা অস্ত্র হাতে সামনে পেছনে নিরাপত্তা বলয় গড়ে দিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির সদস্যরাও ছিলেন তাদের সঙ্গে।