মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে এবার মাঠে নামলো পুলিশ
মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা গণবিক্ষোভে সাধারণ জনগণের সঙ্গে এবার যোগ দিয়েছে দেশটির পুলিশ সদস্যরাও। কারফিউ উপেক্ষা করেই চলা এ গণবিক্ষোভের পঞ্চম দিনে কায়া রাজ্যের ৪০ পুলিশ সদস্য যোগ দেন।
বুধবার বড় বিক্ষোভ হয় ইয়াঙ্গুনে। কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন গণতন্ত্র হরণের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনে। জাপান দূতাবাসের বাইরেও হয় বিক্ষোভ। মান্দালেতে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষোভকারীরা।
অতীতের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে ভিন্ন এবারের এ গণবিক্ষোভ। যাতে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে, প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণদের জান্তাবিরোধী নানা শ্লোগানের প্ল্যাকার্ড।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'জান্তা সরকার উন্নয়ন বিরোধী। কোনোভাবেই এ সরকারকে চাই না আমরা।'
আরেক বিক্ষোভকারী বলছেন, 'জেনারেশন জেড এর সবাই প্রথমবার ভোটার হয়েছেন। জান্তা সরকার আমাদের ভোটকে অবমূল্যায়ন করেছে, আমরা চাই অবিচেই তারা বিদায় হোক।'
চিকিৎসক, শিক্ষক, রেলওয়ে শ্রমিকের পর এবার কায়ান রাজ্যে অন্তত ৪০ পুলিশ সদস্য যোগ দেন গণতান্ত্রিক বিক্ষোভে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার তারা বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করার চেষ্টাও করেন। অবশ্য, পরে তাদের আটক করা হয়।
বুধবার ইয়াঙ্গুনে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডির অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। জব্দ করা হয় বেশ কিছু মালামাল।
বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। দেশটির বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে ২৭ জাতির জোট-ইইউ।
ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান যোশেপ বরেল বলেন, 'বাণিজ্য এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবরোধ, অস্ত্র বাণিজ্য এবং সব ধরনের উন্নয়তা সতায়তার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে।'