মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আরও ৪ দিনের রিমান্ডে
জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আরও চারদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার মহানগর হাকিম মঞ্জুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
দেলোয়ার হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে এদিন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন।
শুনানিকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এজলাসে তোলা হয়।
তার পক্ষে আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে কী তথ্য উপাত্ত পেলো ফরওয়ার্ডিংয়ে বলা নাই। এর আগে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
“তার মাথায় রক্ত জমে গেছে, আবার কেন রিমান্ড নেওয়া হবে? রিমান্ডের নেওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। অসুস্থতার কারণে প্রতি বেলা তাকে ২১টি ওষুধ খেতে হয়।”
রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “মামলাটা জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা। সেসময় শুধু দেলোয়ারকেই হত্যা করা হয়নি। অনেককে হত্যা করা হয়।”
কেন রিমান্ড প্রয়োজন, বিচারক জানতে চাইলে শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “তিনি একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া অনেক কষ্টের। পর্যাপ্ত তথ্য দিচ্ছেন না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “ওয়ান ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোমড় ভেঙে দিয়েছেন। বিএনপিক শেষ করার ষড়যন্ত্র করেছে। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করেছে।”
এসময় আদালত তাকে শুনানি শেষ করতে বলে। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। এসময় আসামির নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।
তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৬ জুলাই দেলোয়ারের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গত ২৩ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। পরদিন এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এরপর জুলাই আন্দোলনকালে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৭ এপ্রিল তাকে চার দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। একই মামলায় ১১ এপ্রিল চার দিন এবং ২৭ এপ্রিল ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এ মামলাতেই আসামিকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পেল পুলিশ।