কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ৬৫ সদস্যের কমিটি
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।
এ কমিটিতে সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন ২৩ জন এবং বাকি ৪২ জনকে সহ-সমন্বয়ক হিসেবে রাখা হয়েছে।
সোমবার এ প্ল্যাটফর্মের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কোটা বৈষম্যের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সফল করার জন্য সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয়ক টিম গঠন করা হল।
কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের কোনো সংগঠন নয়, এটা একটা সমন্বয়ক টিম। কোটা আন্দোলনকেন্দ্রিক কখন প্রোগ্রাম ডাকা হবে, কখন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে তার নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই আমাদের এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।'
কোটা নিয়ে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলনে আছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি তিন দিন ধরে চলছে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার।
গত ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করে রায় দেয় হাই কোর্ট। ওই দিনই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা। ১ জুলাই থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে রোববার ঢাকার শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি মোড় প্রায় পাঁচঘণ্টা অবরোধ করে পূর্বঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সোমবারও তারা একই কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।