শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন চিকিৎসক দম্পতি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 17 অক্টোবর 2026, 12:50 দুপুর • 6 বার পঠিত
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন চিকিৎসক দম্পতি

রিসোর্টের ঘর থেকে বের হয়েই আগুনের ভয়াবহতা টের পান চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন সাদি। চারদিকে আগুন, ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে আসছে। নিচে নামার পথও বন্ধ। কী করবেন বুঝতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়ে ছুটে যান বেলকনিতে। সেখান থেকে লাফ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছিলেন না তিনি।

বেলকনি থেকে লাফিয়ে পড়েন পাশের একটি টিনের ঘরের ওপর। তাতে ঘরটির টিন ভেঙে নিচে পড়ে যান দুজন। এতে তার স্ত্রী চিকিৎসক নাফিজা নাওয়ার খানের পায়ে আঘাত লাগে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন তারা।

শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দশ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন সাদি বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। উঠেছিলেন ওই রিসোর্টে।

কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় শিহাব উদ্দিন সাদি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে তারা দুজনই ঘুমিয়ে ছিলেন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্ত্রী ডেকে জানান, রিসোর্টে সম্ভবত কোনো সমস্যা হয়েছে। এরপরই আগুন দেখতে পান তারা।

“মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। রিসোর্টটি পুরো কাঠের কাঠামো। দরজা খুলেই দেখি সব পুড়ে গেছে। নিচে নামার পথ নেই। কী করব বুঝতে পারছিলাম না,” বলেন শিহাব।

তিনি বলেন, “বেলকনিতে গিয়ে আর কোনো উপায় না দেখে লাফ দিলাম। আমরা একটা টিনের ঘরের ওপর পড়ি। টিন অনেক গরম ছিল। এরপর টিন ভেঙে নিচে পড়ে যাই। আল্লাহর রহমত, জায়গাটা বেশি উঁচু ছিল না। বেঁচে গেছি।”

শিহাব জানান, তাঁর স্ত্রীর পায়ে আঘাত লাগে। তার হাতে ও কাঁধে আঘাত রয়েছে। পরে দুজন সেখান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন।

রিসোর্টের আটটি কক্ষই বুক করা ছিল বলে শুনেছেন জানিয়ে শিহাব বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে থাকা অন্যদের বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

‘রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে হয়েছে’

রিসোর্টের পাশের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও তার ভাই মুসা আগুন লাগার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তাদের ধারণা, রিসোর্টের রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

আব্দুল্লাহ বলেন, রান্নাঘর ও অভ্যর্থনাকক্ষ (রিসিপশন) পাশাপাশি ছিল। এর পাশেই ছিল ওপরের তলায় ওঠার সিঁড়ি। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ওপরের কক্ষে থাকা লোকজন ওই দিক দিয়ে বের হতে পারেননি বলে তার ধারণা।

“আমার মনে হইছে রান্নাঘর থেকে আগুনটা ধরে, তারপর ছড়াইছে। তখন তো সকালের নাশতা বানানোর সময়। ওখান থেকেই আগুনটা ধরতে দেখছি,” বলেন আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর একজনকে জানালার কাচ ভেঙে লাফ দিয়ে বের হতে দেখেছেন।

তার ভাষ্য, বেলকনি দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ না থাকলে রিসোর্টের ভেতরে থাকা মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

আব্দুল্লাহর দাবি, আগুন পাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, সকাল ৭টা ২৪ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর মধ্যে আগুনে রিসোর্টটির বড় অংশ পুড়ে যায়।

“উনারা বের হতে পারছে বেলকনি পেয়ে। ওইটা ছাড়া আর পথ ছিল না,” বলেন তিনি।

আব্দুল্লাহ জানান, আগুনের পর আহতদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে আসেন।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।