সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ককরোচ পার্টি দমাতে এবার লাল হিট পার্টি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 19 অক্টোবর 2026, 08:06 সকাল • 5 বার পঠিত
ককরোচ পার্টি দমাতে এবার লাল হিট পার্টি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) বিক্ষোভের পালটা অবস্থান নিয়েছে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’। বিক্ষোভকারীদের কটাক্ষ করে নতুন এই গোষ্ঠীর নেতারা বলছেন, আন্দোলনের নামে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তাদের দাবি, এই আন্দোলন ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় হতে হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে প্রথম সদস্য সমাবেশের আয়োজন করে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’। রাজধানীর কনট প্লেসসহ বিভিন্ন এলাকায় সিজেপির বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠীর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

সমাবেশে গোষ্ঠীটির প্রধান অয়ন ভাটনগরসহ অন্য বক্তারা সিজেপি, কংগ্রেস ও বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করছে এবং ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

অয়ন ভাটনগর বলেন, সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্র করার সক্ষমতা তুলে ধরতেই এই সমাবেশের আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানুষকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানালে কত মানুষ সমবেত হবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দশেরাকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের উৎসব উল্লেখ করে ভাটনগর বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলে চলবে না, প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে হবে। বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের ‘পোকামাকড়’ ও ‘তেলাপোকা’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের সরকার পরিবর্তনসংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ভাটনগর প্রশ্ন করেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে কীভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব? প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলারও সমালোচনা করেন তিনি।

ভাটনগরের আশঙ্কা, আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হলে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে। তার মতে, কোনো দাবির পক্ষে ৫০ হাজার মানুষ জড়ো হলেই তা মেনে নিতে হবে, এমন কোনো যুক্তি নেই।

২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য চালু হওয়া ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ভাটনগর বলেন, ওই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করার আগে তার নিয়োগপ্রক্রিয়া ও আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের কার্যকাল সম্পর্কে জানা উচিত।

ভাটনগর বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্য নিয়েই ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ গঠন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, সিজেপির আন্দোলনের উদ্দেশ্য পুলিশ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা। কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও (এআইএসএ) সিজেপিকে সমর্থন করছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর লক্ষ্য বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সিজেপির আন্দোলনে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভাটনগর। তার বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। দশেরার দিন থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পতনের সূচনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশে কথক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত বলেন, দেশকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে মানুষের ভাবা প্রয়োজন। মোদির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি উন্নত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের অন্যদের অন্ধভাবে অনুসরণ না করে সঠিক পথে এগোনোর আহ্বান জানান রিচা।

অন্যদিকে, সাংবাদিক পবন দাবি করেন, চলমান বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়ীদের ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাবের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য সমাবেশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

পবন বলেন, ‘যেখানে তেলাপোকা থাকবে, সেখানে হিট থাকবেই।’ কীটনাশক ব্র্যান্ড ‘হিট’-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত তিন দিন ধরে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’র কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি।ভাটনগরের দাবি, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছ থেকেও তাদের সংগঠন সমর্থন পাচ্ছে। সমাবেশের বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে রাজপথে সক্রিয় হওয়া এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।