কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১৭ ঘণ্টা পর
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ১৭ ঘণ্টা পর, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট, প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ ১,৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে ৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিট বন্ধ হওয়ার পরেও ৭৫০ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। শনিবার সারা দিন কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় দেশে লোডশেডিং করতে হয়েছে, বিশেষ করে দিনের বেলায়।
পিজিসিবি ও পিডিবি সূত্র জানায়, আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঘাটতি পূরণে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পেট্রোবাংলাকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির অনুরোধ জানানো হয়েছে। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল দুপুর তিনটায় ১৪,০০০ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ৪২৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।
পিডিবির উৎপাদন বিভাগের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘাটতি মেটাতে আজ দিনের বেলায় তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাড়তি উৎপাদন করা হয়েছে। অনুরোধ করা হয়েছে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর। তবে সন্ধ্যায় আদানির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে ফেরা পিডিবির জন্য স্বস্তিদায়ক।
উল্লেখ্য, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি পর্যালোচনায় একটি সরকারি কমিটি কাজ করছে। কয়লার মূল্য নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং আদানির পাওনা অর্থ নিয়ে একাধিকবার তাগাদা এসেছে। বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ কমে ৫০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ কিনছে। প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একই বছরের জুনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। পিডিবি ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে।