বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে উত্তাপ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 08 আগস্ট 2022, 12:14 দুপুর 498 বার পঠিত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে উত্তাপ

এক মুদি দোকানী বললেন, ‘‘বাজারে গিয়ে এখন আর বুঝি না কখন কোন জিনিসের দাম কতো থাকবে। আবার টাকা নিয়ে বসে থাকি, কিছু জিনিস কিনতেও পারি না। কোনোটা পাওয়া যাচ্ছে না, কোনোটার বা ভাবনার চেয়ে বেশি দাম।’’

একজন কিনবেন সয়াবিন তেল। দোকানী বলেন, ‘‘আজকেও ১৮৫ টাকা লিটারে দিতে পারছি। কিন্তু এই মাল শেষ হলে আর দিতে পারবো কি না বলতে পারছি না।’’

খুচরা এক সবজি বিক্রেতা মুখে হাসি নিয়েই বলেন, ‘‘কাস্টোমারকে প্রশ্নের জবাব দিয়ে পারা যায় না্। সবজির দাম লাফ দিয়ে বাড়ছে। পটলের দাম গত সপ্তাহে ১২ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, আজ ২৫ টাকা কেজি পাইকারি কিনতে হলো।’’

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে অস্থিরতা আগে থেকে ছিল। শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সেই অস্থিরতায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। কোন পণ্যের নতুন দাম কি হবে তা নিয়ে নাকি হিসেব কষছে উৎপা্দকরা। সুতরাং, কিছু জিনিসের জোগান বাজারে কমে গেছে। কিছু জিনিস এর মধ্যে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা শুরু হয়েছে। 

সবজির বাজার কিছুদির হলো এসব অস্থিরতার বাইরে ছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুব ভালোভাবে পড়েছে সবজি বাজারে। সব ধরনের সবজির দাম অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে কেজিতে। কাচা মরিচের তো ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে গেছে আগেই। যেসব সবজির জোগান চাহিদার চেয়ে একটু বেশি সেসব কেবল দামে একটু সহনীয়, বাকি সব লাফ দিয়ে নিজের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে।

এই নতুন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। নিম্ন মধ্যবিত্তরা, হিসেব করে চলা মানুষের পেটে যেন লাথি লেগেছে। গত মাস তিনেক আগে সয়াবিন তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার পর আরো অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। বেড়েছিল চালের দামও। এখন আবার চালের দামে পড়েছে প্রভাব। নিত্যপ্রয়োনীয় দ্রব্যের দাম, খাদ্যপণ্যের দাম আবার বাড়ার দিকে। 

মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়। টাকার দাম খুব দ্রুত কমে গেছে। কিছুদিন আগের এক হাজার টাকা আর এখনকার দেড় হাজার টাকার দাম কোনো ক্ষেত্রে কয়েক মাস আগের দুই হাজার টাকা আর এখনকার এক হাজার টাকার মূল্য সমান হয়ে গেছে। এতেটাই পড়ে গেছে টাকার মান।

বলা হচ্ছিল সবজির বাজারের কথা। পরিবহন খরচ সবজির বাজারে ফেলেছে প্রভাব। একটা ট্রাকে আগে ৭ হাজার টাকায় বগুড়া থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া হয়ে যেত। এখন লাগছে ১০ হাজার টাকা। ৩ হাজার টাকার বেশি। সবজি ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে সেই খরচ। তারা টাকাটা তুলবেন কোথো থেকে? সবজির দাম বাড়িয়ে সেখান থেকে তাদের সমন্বয় করতে হচ্ছে এই ৩ হাজার টাকা। 

সরকার শুক্রবার মধ্যরাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা, পেট্রল ৪৪ টাকা ও অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়েছে। তাতে করে এখন ট্রাকের ভাড়াও আগের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ক্যারিং কস্ট বলে যে ব্যাপারটা ব্যবসায় বড় ভূমিকা রাখে সেটা এখন সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসেছে। কারণ, ব্যবসায়ীরা তো পাবলিকের কাছ থেকেই তাদের বাড়তি খরচ আদায় করবেন!