ইরানকে জাতিসংঘের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্ধারণ
জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্ধারণ হয়েছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধিকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সংস্থার সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। দেশটির বার্তা সংস্থা "ইবনা" এই তথ্য নিশ্চিতকরন করে। এর মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের জন্য 'এশিয়া ফ্যাসিপিক' গ্রুপ থেকে সাধারণ পরিষদের ৫ জন সহ-সভাপতির একজন মনোনয়ন হলো ইরান। নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্টরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাগুলো পরিচালনা করার পাশাপাশি এজেন্ডা নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসূচি সাজানোর কাজ করবেন। এছাড়া এ কাজের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্যকে নিয়ে সাধারণ কমিটির সদস্য তালিকা গঠন করবে নির্বাচিত দলগুলো।
জাতিসংঘের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি নিরাস্ত্র করন ও অস্ত্রের বিস্তার রোধ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং এই কমিটির পরিচালনা পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছে ইরান। যদিও সপ্তাহ খানেক ধরে ইরানের এই নিয়োগ দুটিকে ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছিল আমেরিকা । অবশেষে অসহায়ের মতো ম্লান হয় আমেরিকা।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে আমেরিকার সাথে নতুন করে সমস্যা হয় তেহরানের। সে সময় ইরানের ধর্মীয় নেতা খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি 'জেনারেল কাশেম সুলাইমানকে' হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এই জেনারেলের হত্যাকে কেন্দ্র করে দু'দেশের সম্পর্ক চলে যায় চরম তলানিতে । যার ফলোশ্রুতিতে ১ম বারের মতো মার্কিন কোনো ঘাটিতে সরাসরি হামলা চালায় ইরান। তার আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নিজ দেশের জনগণের উপর নিপিড়নের ধারা অব্যাহত রাখায় ইরানকে নারী অধিকার সংস্থা থেকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় নারীর অধিকারে পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে "কমিশন অন দ্যা স্ট্যাটাস ওব উইমেন" থেকে ইরানকে বহিষ্কারের জন্য একটি খসড়া পেশ করে আমেরিকা। খসড়ার পন্থা পেশ করে ইরানকে বহিষ্কারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খসড়া প্রস্তাব আনার পর ভোটাভোটি হয় এবং ২৯/৮ ভোটে প্রস্তাব পাশ হয়। এতে ১৬ সদস্য ভোট প্রদান থেকে বিরত ছিল। ভোটাভোটির মাধ্যমে গৃহীত এই সিদ্ধান্তে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির বর্তমান মেয়াদের বাকি অংশটুকুর জন্য প্রযোজ্য হয়েছে।