বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি কোথায়? যা বললেন রুশ দূত

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 02 এপ্রিল 2026, 11:37 দুপুর 108 বার পঠিত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি কোথায়? যা বললেন রুশ দূত

মুজতাবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় এক মাস হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি।

এর মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়েছে। তবে জনসম্মুখে অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুজবের জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভি লিখেছে, সেসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মুজতাবা খামেনি ইরানেই রয়েছেন।

রাষ্ট্রদূত আলেক্সি দেদভ সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি দেশে রয়েছেন, তবে ‘বোধগম্য কারণেই’ তিনি জনসম্মুখে আসা এড়িয়ে চলছেন।

মুজতাবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আলোচনা

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন বাদে তার স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মুজতাবা খামেনি।

নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আহত এবং সম্ভবত ‘বিকলাঙ্গ’ অবস্থায় রয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয়।

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য মুজতাবা খামেনিকে মস্কোতে নেওয়া হয়েছে।

গত বছর দুই দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। মস্কোর তরফে মুজতাবার ইরানে অবস্থানের কথা বলার মধ্য দিয়ে তেহরানের সঙ্গে তাদের চলমান সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত দেয়।

এনডিটিভি লিখেছে, মুজতাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতির মধ্যেও ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগতদের উৎসাহ কমেনি। গত এক মাসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

এ সময়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।

তবু ইরানের নতুন নেতার অব্যাহত অনুপস্থিতি একটি গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—যুদ্ধের এই সময়ে ইরান আসলে চালাচ্ছেন কে?

৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা তার বাবার শাসনামলে প্রায় চার দশক আড়ালে থেকেই কাজ করেছেন। প্রভাবশালী হলেও খুব কমই জনসম্মুখে দেখা দিতেন।

সিএনএন লিখেছে, ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী পদে আসীন হওয়ার পরও মুজতাবার এমন অদৃশ্য থাকা দেশটির ক্ষমতার পরিবর্তিত প্রকৃতি তুলে ধরে; যেখানে শীর্ষে থাকা ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।