শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

হজের ইতিহাসে আক্রমণ ও ডাকাতি

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক 26 মে 2025, 07:49 সকাল 316 বার পঠিত
হজের ইতিহাসে আক্রমণ ও ডাকাতি

রাজনৈতিক সংঘাত, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করেছে সামরিক আক্রমণ ও লুটপাট। এই পর্বে মঙ্গোল ও ক্রুসেডারদের আক্রমণ, সামাজিক-অর্থনৈতিক বাধা এবং হজপথে ডাকাতির প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

 মঙ্গোল ও ক্রুসেডারদের আক্রমণ

মঙ্গোল ও ক্রুসেডারদের আক্রমণে মুসলিম অঞ্চলগুলোতে নেমে আসে বিশৃঙ্খলা, হজের পথ হয়ে ওঠে অনিরাপদ।

  • মঙ্গোল আক্রমণ শুরু হয় ৬১৫ হিজরিতে (১২১৮ খ্রি.), যার ফলে ইরান, ইরাক, মধ্য এশিয়া জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

  • আবু শামা মাকদিসি উল্লেখ করেন, ৬১৭ হিজরিতে (১২২০ খ্রি.) খোরাসান ও পারস্য থেকে কেউ হজে যেতে পারেননি।

  • ৬৩০ হিজরি (১২৩৩ খ্রি.) থেকে মঙ্গোলদের নজর পড়ে ইরাকের দিকে। ইমাম জাহাবি লিখেছেন, যুদ্ধ বাধায় সবাইকে যুদ্ধে অংশ নিতে হওয়ায় হজ বন্ধ হয়ে যায়।

  • ৬৫৬ হিজরি (১২৫৮ খ্রি.) সালে মঙ্গোলরা বাগদাদ দখল করে আব্বাসি খিলাফতের পতন ঘটায়, যা দীর্ঘ সময় হজ স্থগিত রাখে।

ক্রুসেডাররাও হজকে বাধাগ্রস্ত করে।

  • ৪৯২ হিজরি (১০৯৯ খ্রি.) ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন ও শামের উপকূল দখল করে নেয়।

  • ৬২৪-৬২৭ হিজরি (১২২৮-১২৩১ খ্রি.) পর্যন্ত শামের হাজিরা হজে যেতে পারেননি।

  • ক্রুসেডারদের উপস্থিতি ও আইয়ুবি শাসনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়।

 সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা

হজ পালনে অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সামাজিক স্থিতি অপরিহার্য।

  • ফাতেমি ও আব্বাসি দ্বন্দ্বের সময় মিসর ও ইরাকে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা।

  • ৪১১ হিজরি (১০২১ খ্রি.) ওয়াসিতে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে হজ বন্ধ হয়ে যায় (ইবনে জাওজি)।

  • ৪৪১ হিজরি (১০৫০ খ্রি.) বাগদাদে সুন্নি-শিয়া দাঙ্গার কারণে হজযাত্রা বন্ধ হয় (ইবনে কাসির)।

ডাকাতি ও লুটপাট

হজের পথে লুটেরা ও বেদুইন গোষ্ঠীর হামলা হাজিদের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে ফেলে।

  • ৩৮৪ হিজরি (৯৯৫ খ্রি.) আসফার আরাবি নামক বেদুইন নেতা হাজিদের সম্পদ দাবি করেন, ফলে তারা হজ না করেই ফিরে যান (ইবনে আসির)।

  • ৪২৪ হিজরি (১০৩৪ খ্রি.) ইরাক ও মিসরের হাজিরা বেদুইনদের ভয়ে হজে যেতে পারেননি।

  • বসরা থেকে যাত্রারত কাফেলার ওপর হামলা হয়, যদিও আগেই নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

কখনো কখনো শাসকেরা লুটেরাদের সঙ্গে চুক্তি করতেন:

  • ৩৮৫ হিজরি (৯৯৬ খ্রি.) বদর ইবনে হাসানওয়াইহ কুর্দি আসফার আরাবিকে ৫ হাজার দিনার দেন, যেন হাজিরা নিরাপদে যেতে পারেন (ইবনে তাগরিবারদি)।

  • এটি পরে একটি নিয়মিত রীতিতে রূপ নেয়।

ফিকহের দৃষ্টিতে ডাকাতির প্রভাব

ইসলামী ফিকহে হজের পথে অনিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

  • ইমাম কাসানি (বাদাইউস সানাই) বলেন, পথে নিরাপত্তা না থাকলে হজ ফরজ হয় না

  • মালিকি ফকিহরা লুটপাটের সম্ভাবনায় হজের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার ফতোয়া দিয়েছেন।

  • ইবনে রুশদতুরতুশি মত দেন, বিপজ্জনক পথ হজকে নিষিদ্ধ পর্যায়ে নিতে পারে।