হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হলো আনিসুল-সালমানদেরকে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমসহ অন্যান্য আসামিদের আজ বুধবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সকাল ১০টায় ঢাকা মহানগর হাকিম সেফাতুল্লাহর আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের হাজতখানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পুলিশি পাহারায় থাকা আসামিদের হ্যান্ডকাফ, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো ছিল।
হাজির করা আসামিদের মধ্যে সালমান এফ রহমান সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেছিলেন। তার মাথায় ছিল পুলিশের হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। তার দুই হাত পেছনে মোড়ানো অবস্থায় ছিল এবং হাতকড়া পরানো ছিল।
তার পেছনে দাঁড়ানো ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তার মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকলেও তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল না, শুধু বাঁ হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল।
এরপর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও হাজী সেলিমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং কারও দুই হাতে, কারও এক হাতে হাতকড়া ছিল।
নারী পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকেও আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের আদালতে তোলার পর একে একে তাদের হাতকড়া খোলা হয়। শুনানির সময় সালমান এফ রহমান নিজের দাড়ি মুখে নিয়ে কামড়াচ্ছিলেন, যা তিনি পুরো শুনানির সময় ধরে চালিয়ে যান।
তদন্ত কর্মকর্তারা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুই হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে ৬ দিনের, সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
এছাড়া গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলাম, ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল, ভোলা-৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমসহ ৯ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।